আমাদের ভারত, ২৫ ফেব্রুয়ারি: হাওড়া শুট আউট কান্ডে মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। হাড় হিম করা হত্যাকাণ্ডে তৃণমূল বিধায়কের সঙ্গে অভিযুক্তদের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই বিষয়ে মোটেও অবাক হননি বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ তথা বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।
সুকান্ত মজুমদার বলেন, বিধায়কের সঙ্গে থাকলেই সাত খুন মাফ। আপনি যতই ধর্ষণ করুন, গুলি করে কাউকে হত্যা করুন, পুলিশ তাকে দেখতে পাবে না। বিধায়কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে বলেই তো দুই অভিযুক্ত শুট আউট করতে পারেন। আপনি করতে পারবেন নাকি? বন্দুক তো দূরের কথা, একটা লাঠি দিয়ে দাঁড়ালেই পুলিশ আপনাকে ধরে নিয়ে যাবে। তখন পুলিশ সব কিছু দেখতে পাবে। কিন্তু অপরাধীদের ক্ষেত্রে পুলিশ বলবে দেখতে পাচ্ছি না তো। এটাই তো এখন চলছে এ রাজ্যে। প্রোমোটার খুনে অভিযুক্তদের পাশাপাশি স্থানীয় বিধায়কের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি।
বুধবার ভোরে হাওড়ার গোলাবাড়ি, পিলখানা এলাকায় দুঃসাহসিক খুনের ঘটনায় তোলপাড় হয়ে যায় রাজ্য। প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে এক তরুণ প্রোমোটারকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। মৃতের নাম সাফিক খান, বয়স ২৭। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানাগেছে, ভোর সাড়ে চারটের কিছু আগে দুই ব্যক্তি এসে সাফিকের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। খুব কাছ থেকে একাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। গুলিতে গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে হাওড়া সিটি পুলিশ।
এলাকায় একটি চায়ের দোকানের সামনে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরায় ঘটনার অংশ বিশেষ ধরা পড়েছে। ফুটেজে দেখা গেছে, হামলার পর অভিযুক্তরা তড়িঘড়ি না করে স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই এলাকা ছাড়ছে। আর এই দৃশ্য দেখার পর থেকে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, যদি অপরাধীরা এত নির্ভয়ে চলে যেতে পারে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে নিহতের সঙ্গে এলাকার দুই দুষ্কৃতির পুরনো বিবাদ ছিল। আর্থিক লেনদেন ও তোলাবাজির অভিযোগে উঠে এসেছে, ব্যক্তিগত শত্রুতা না আর্থিক লেনদেন, কোন ঘটনা এই মৃত্যুর পেছনে দায়ী তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

