জয় লাহা, আমাদের ভারত, দুর্গাপুর, ১৫ জুন: বাড়ছে জনসংখ্যা। বাড়ছে জনবসতি। আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জবরদখল। আর এই জবরদখল এখন গোটা দেশের জলন্ত সমস্যা। রেললাইনের পাশে জবরদখলের পর এবার আস্ত রেললাইনটাই জবরদখলের কব্জায় উধাও। বন্ধ কারখানার পন্য পরিবাহী রেললাইনের লোহার পাত তুলে চলেছে অবাধে বসবাস। এমনই নজিরবিহীন ছবি ধরা পড়ল শিল্পশহর দুর্গাপুরের ৩০ নং ওয়ার্ডের ভগৎ পল্লী এলাকায়।
প্রসঙ্গত, দুর্গাপুরে রাষ্ট্রায়ত্ত মাইনিং অ্যান্ড এলোয়েড মেশিনারি কর্পোরেশন (এমএএমসি) কারখানা, ভারত অফথালমিক গ্লাস লিমিটেড সহ অন্যান্য বেসরকারী কারখানা রয়েছে। একসময় ওইসব কারখানায় পন্যপরিবহনের জন্য রেল লাইন বসানো হয়ছিল। দুর্গাপুর স্টেশনের কিছু দূরে স্থলবন্দর থেকে মালগাড়ি সরাসরি কারখানাগুলিতে ঢুকে যেত। ১৯৯২ সালে এমএএমসি কারখানাটি রুগ্ন শিল্পের আওতায় চলে যায়। ওই সময় বহু শ্রমিককে সেচ্ছাবসরে বসিয়ে দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ২০০২ সালের ৩ জানুয়ারি কাররখানাটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। একইরকমভাবে ২০০৭ সালে বন্ধ হয়ে যায় ভারত অপথালমিক গ্লাস লিমিডেট (বিওজিএল) কারখানা। বন্ধ হয়ে যায় জেসপ কারখানা।

শিল্পনগরীর বুকে কালো মেঘ নেমে আসে। পরবর্তীকালে ২০১০ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত কোল ইন্ডিয়া, ভারত আর্থ মুভার্স (বিইএমএল) ও ডিভিসি যৌথ কনসোটিয়াম কারখানাটি অধিগ্রহণ করলেও, এখনও এমএএমসি কারখানার উৎপাদন শুরু হয়নি। কারখানার পুনরুজ্জীবন কার্যত বিশ বাঁও জলে। অন্যদিকে বিওজিএল নিলামের ম্যাধ্যমে স্ক্যার্প করে বিক্রি হয়ে গেছে। বন্ধ কারখানায় বেড়েছে লোহা চোরদের দৌরাত্ম। কারখানার ভেতরের যন্ত্রাংশ যেমন অবাধে লুট হচ্ছে। তেমনই বন্ধ কারখানার পন্য পরিবহনের আস্ত রেল লাইন চুরি হয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পত্তির নজরদারি তলানিতে। দুর্গাপুর স্থলবন্দর থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত ওইসব কারখানায় সরাসরি পন্য পরিবহনের জন্য রেল লাইন ছিল। কিন্তু গত কয়েকবছর ধরে লোহা চোরদের দৌরাত্মে সেসব উধাও। ওইসব রেললাইনের জমিতে চলছে জবরদখল করে ঘরবাড়ি, কমিউনিটি শৌচালয়, আবার গোবরের ঘুঁটে দেওয়ার কাজ। লাইনের ওপর মজুত করা হয়েছে পাহাড় প্রমান ঘুঁটে। অভিযোগ, গত কয়েকবছর ধরে ভগতসিং পল্লী এলাকায় বহিরাগতদের বসবাস শুরু হয়েছে।
সিটু নেতা পঙ্কজ রায় সরকার জানান, “জবরদখল হচ্ছে তৃণমূলের পিপিপ্রজেক্ট। তৃণমূল ও পুলিশের মদতে বন্ধ কারখানায় লোহা চোরদের বাড়বাড়ন্ত। টাকার বিনিময়ে সরকারি জায়গায় বসবাসের সুযোগ করে দিচ্ছে। ওইসব জবরদখল উচ্ছেদের দায় কেন্দ্র রাজ্য কোনো সরকারই নিচ্ছে না। অরাজকতা চলছে।”
বিজেপি নেতা অমিতাভ ব্যানার্জি জানান, “রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের দায় রাজ্য সরকারের। একশ্রেণির তৃণমূলের মদতে লোহাচোরেদের উপদ্রব্য। তাদের ভোট ব্যাঙ্কের জন্য সরকারি জমির ওপর বহিরাগতদের জবরদখল ক্রমাগত বেড়ে চলেছে।” গত কয়েকমাস ধরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রেললাইনের পাশে জবরদখল উচ্ছেদে নেমেছে রেল কর্তৃপক্ষ। আর ওই উচ্ছেদকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। জবরদখলকারীদের পুনর্বাসন নিয়ে দুর্গাপুর পুরসভা নির্বাচনের আগে ক্রমশ সুর চড়ছে শাসক বিরোধী সব দলের। প্রশ্ন, সরকারি জবরদখল উচ্ছেদের দায় কার? কোথা থেকে আসছে এসব পরিবার?
যদিও এডিডিএ’র চেয়ারম্যান তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য বলেন,” একশ্রেণির নেতৃত্বে জবরদখলের প্রবনতা প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে। জবরদখল উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু তারপর আবারও সেখানে বসবাস, দোকান শুরু করে দেয়। সরকারি জমিতে জবরদখল ঠেকাতে স্থানীয় নেতৃত্বকে সক্রিয় ভুমিকা নিতে হবে।” যদিও আসানসোল রেলওয়ে ডিভিশন জানিয়েছে, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।’

