রাজেন রায়, কলকাতা, ২৬ অক্টোবর: স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকা সত্ত্বেও মানুষ তার সুবিধা পাচ্ছেন না, এমন অভিযোগ উঠেছে বারবারই। সোমবার শিলিগুড়ি প্রশাসনিক বৈঠকে এই নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আর তার পরেই স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোম এবং সরকারি হাসপাতালের পৃথক অ্যাডভাইজারি জারি করল নবান্ন।
একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল প্যাকেজ বহির্ভূত টাকা নিয়ে রোগীর চিকিৎসা করছে বলে স্বাস্থ্যসাথী সমিতির পর্যবেক্ষণ। আর তাতেই বাড়ছে সমস্যা। বকেয়া বিল বাকি থাকার কারণেই মানুষ স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়েও পরিষেবা পাচ্ছেন না, কটাক্ষ করেছিলেন বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য। আর তারপরেই জারি করা হল এই নির্দেশিকা।
মূলত প্যাকেজ-বর্হিভূত খরচ নিয়ে অ্যাডভাইজারিতে বার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, সমস্ত রোগের জন্য স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় মোট ১৯০০ প্যাকেজ রয়েছে। এমার্জেন্সির ক্ষেত্রে মেডিসিন ও সার্জারিতে প্যাকেজ বহির্ভূত বিল করা যাবে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। স্বাস্থ্যসাথী বা অন্যান্য স্বাস্থ্য প্রকল্পের আওতাতে সরকারি হাসপাতালগুলিতে ভর্তি করার কথা বলা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় হেলথ স্কিম বা ইএসআই কার্ড থাকলেও তার আওতায় রোগীকে আনার কথা বলা হয়েছে। স্বাস্থ্যসাথী কার্ড হাসপাতালে আনতে ভুল হলে আধার কার্ডের নম্বর দিয়ে রোগীকে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের অধীনে ভর্তি করার কথা বলা হয়েছে। এমনকি স্বাস্থ্যসাথী কার্ড না থাকলেও যাতে রোগী পরিষেবা পায়, তার জন্য হাসপাতাল থেকেই সরাসরি কার্ড ইস্যু করার কথাও বলা হয়েছে। নবান্নের তরফেও সরকারি হাসপাতাল এবং বেসরকারি হাসপাতালের পক্ষে এবার পৃথক পৃথক অ্যাডভাইজারি জারি হওয়ায় এবার অনেকেই স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের সুবিধা পাবেন, এমনটাই আশা করছেন সাধারণ মানুষ।

