ট্রাঙ্কুলাইজার দিয়ে ফেরত পাঠানো হল জঙ্গলে, বাঁকুড়া থেকে দামোদর পেরিয়ে দাঁতাল হাতি ঢুকল গলসিতে

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২৪ ফেব্রুয়ারি: ফের দামোদর পেরিয়ে এক দলমার দাঁতাল হাতি ঢুকল গলসির কৃষি অঞ্চলে। আর তাতেই আতঙ্কে ঘুম ছুটেছে গলসির চাষিদের। তবে দাপিয়ে বেড়ানোর আগেই বনবিভাগের তৎপরতায় ট্রাঙ্কুলাইজার দিয়ে উদ্ধার করে ফেরত পাঠানো হল বাঁকুড়ায়। 

স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, বৃহস্পতিবার রাত ২টো নাগাদ দামোদর নদ পেরিয়ে একটি দাঁতাল হাতি বুদবুদের কসাবায় ঢোকে। আগাম খবর পেয়ে কড়া প্রহরায় ছিল পূর্ব বর্ধমান বন দফতর। হাতিটির গতিবিধি ও আচরনের ওপর নজরদারিতে সক্রিয় ছিল বনকর্মীরা। সেইমত হুল্লা পার্টি মোতায়েন ও এলিফেন্ট স্কোয়াড তৈরী ছিল। এছাড়াও ট্রাঙ্কুলাইজারের ব্যবস্থা রাখা ছিল।

প্রসঙ্গত, গত কয়েকমাস ধরে বাঁকুড়ার সোনামুখি, বড়জোড়া, বেলিয়াতোড় রেঞ্জ এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ৭৩টি হাতির দল। তবে এই হাতির আচরণ ছিল ব্যাতিক্রমী। হাতিগুলি হিংস্র ও আক্রমনাত্মক। আর তাই কোনরকম ঝুঁকি না নিয়ে আঁটোসাঁটো নজরদারিতে রাখে বন দফতর। উন্মত্ত হাতির আক্রমনে বাঁকুড়ার ওইসব এলাকায় জমির ফসল যেমন নষ্ট হয়েছে। তেমনই ঘরবাড়ি ভাঙ্গচুর হয়েছে। এছাড়াও চলতি বছর হাতির আক্রমনে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুও হয়েছে। বৃহস্পতিবার সোনামুখীর পাঠসোল এলাকায় ১টি দাঁতাল ছিল। এদিন রাতে ওই দাঁতাল হাতি দামোদর পেরিয়ে ঢুকে পড়ে। গলসি-১ নং ব্লকের কসবা, লোয়াপুর, কৃষ্ণরামপুর মূলত কৃষি প্রধান এলাকা। সম্প্রতি বোরো ধান চাষ শুরু হয়েছে। মাঠ ভরা সবুজ ধান হাতির পায়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ে চাষিরা। 

তবে হাতিটিকে কব্জা করতে এদিন ট্রাঙ্কুলাইজার প্রয়োগ করে বন দফতর। গলসিতে হাতির উপদ্রব নতুন কিছু নয়। প্রায়ই দামোদর পেরিয়ে কসবা দিয়ে গলসীর কৃষি অঞ্চলে হাতি ঢুকে পড়ে। গতবছর এপ্রিল মাসে এক জোড়া হাতি ঢুকে পড়েছিল। তারপর আবারও হাতি ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত গলসী এলাকার চাষিরা। যদিও খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বনকর্মীরা।

পানাগড় রেঞ্জার সুভাষ পাল জানান, “ক্ষয়ক্ষতি সেরকম হয়নি। হাতিটিকে ট্রাঙ্কুলাইজার দিয়ে বাঁকুড়ার জঙ্গলে পুনরায় ফেরত পাঠানো হয়েছে।”  

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *