আমাদের ভারত, ৪ ফেব্রুয়ারি: বৃহস্পতিবার রাজ্য বামফ্রন্টের বৈঠক হয়েছে। আর তার আগে বুধবারের সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মন্ডলীর বৈঠকে আসন সমঝোতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্য সম্পাদক মন্ডলীতে নিউটনের হোটেলে গত বুধবার হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সেলিম যে বৈঠক করেছিলেন তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এই বৈঠকের খবর বিদ্যুতের গতিতে ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল সিপিএমের অন্দরে। সেলিমের পক্ষে আর বিপক্ষে আড়াআড়ি ভাগ হয়ে গিয়েছিল দুই শিবির। কিন্তু বুধবার সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মন্ডলীর বৈঠকের সেলিমকে একাধিক নেতা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন, হুমায়ুনের সঙ্গে তার এই বৈঠক করা ভালো ভাবে নেয়নি অনেকেই, এবং বৈঠক নিয়ে যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে তা ভালো বার্তা দেয়নি।
একসময় কংগ্রেস করতেন হুমায়ুন। তারপরে গিয়েছিলেন তৃণমূলে। আবার তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়ে লোকসভা ভোটে পদ্ম শিবিরের প্রার্থীও হয়েছিলেন। তারপর আবার ফিরেছিলেন তৃণমূলে। ২০২১- এর তৃণমূলের টিকিটে বিধায়ক হয়েছিলেন। খাতায়-কলমে এখনো তিনি তৃণমূল বিধায়ক। যদিও দল তাকে সাসপেন্ড করেছে। সেই হুমায়ুন কবীর বাবরি মসজিদ নির্মাণ করছেন মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গায়। গত লোকসভা নির্বাচনের আগে ধর্মীয় হিংসা ও উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। জনতা উন্নয়ন পার্টি নামক নতুন দল করে তিনি তৃণমূলকে হটানোর ডাক দিয়েছেন। এই হুমায়ুনের সঙ্গে কেন বৈঠক? সেই প্রশ্নেই ঝড় উঠেছে সিপিআইএমের মধ্যেই।
সেলিম বলেছিলেন, তিনি মন বুঝতে গিয়েছিলেন। কিন্তু রাজ্য সম্পাদক মন্ডলীর সিংহভাগ সদস্য সেলিমকে বুঝিয়ে দেন হুমায়ুনের থেকে দূরে থাকুন। সূত্রের খবর, রাজ্য সম্পাদক মন্ডলীর একাধিক সদস্য বুধবারের বৈঠকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, হুমায়ুনের বিষয়টিই যেন আর আলোচনার মধ্যে কখনো না আসে।
একাধিক নেতা বৈঠকে স্পষ্ট বোঝাতে চেয়েছেন, এই বৈঠকের ফলে উদ্বাস্তু এলাকায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। জানাগেছে, সেলিমও বোঝানোর চেষ্টা করেন, তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে সেখানে যাননি। বিষয়টি বুঝতে গিয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সেলিম ও হুমায়ুনের বৈঠক নিয়ে সরব হয়েছিলেন বাম শরিকরাও। সিপিআইএম- এর লিবারেশনের তরফে প্রকারান্তরে ক্ষোভও প্রকাশ করা হয়েছিল।
অন্যদিকে হুমায়ুন- সেলিমের বৈঠক নিয়ে সাফাই দিতে গিয়ে সিপিএম রাজ্য কমিটির তরুণ সদস্য শতরূপ ঘোষ সংবাদ মাধ্যমকে বিবৃতি দিয়ে বলেছিলেন, সেলিম যা করেছেন বেশ করেছেন। দরকার হলে আবার বৈঠক করবেন। সব নৈতিকতার ঠেকা কি একা সিপিএম নিয়ে বসে আছে? কিন্তু তরুণ নেতার এই বক্তব্য বাম মহলেই আগুনে ঘৃতাহতের কাজ করেছিল।
এর পাল্টায় রাজ্য কমিটির আরেক সদস্য প্রতিকুর রহমান সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে লিখেছিলেন, নীতি নৈতিকতা ছাড়া আর যাই হোক কমিউনিস্ট পার্টি হয় না। সংখ্যালঘু অংশের এই নেতার পোস্ট কার উদ্দেশ্যে তা সিপিএমের কর্মী সমর্থকদের বুঝতে অসুবিধা হয়নি। তবে ব্যক্তিগতভাবে কোনো কোনো নেতার পক্ষ নিতে গিয়ে আসলে তারা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে দলে। তরুণ নেতাদের মধ্যে প্রকাশ্যে এই বাক যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাজ্য সম্পাদক মন্ডলী। তাই মন্তব্য করার ক্ষেত্রে তরুণ নেতাদের রাশ টানার মতো কড়া বার্তা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

