জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২১ অক্টোবর: ফের লোহা চোরদের দৌরাত্ম্য ইসিএলের জেকে রোপওয়েতে। নিরাপত্তা রক্ষীদের মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে ডাকাতির চেষ্টা। পুলিশের মোবাইল গাড়ি আসতেই পগারপাড় দুষ্কৃতীরা। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটেছে ইসিএলের জেকে রোপওয়ের ২/৭ মদনপুরে গোডাউনে। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ঘটনায় জানা গেছে, অন্ডালের মদনপুর এলাকায় ইসিএলের জেকে রোপওয়ে গোডাউন রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১২ নাগাদ পনেরো-কুড়ি জনের সশস্ত্র দুষ্কৃতী দল হানা দেয় বলে অভিযোগ। গোডাউনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বেসরকারি সংস্থার নিরাপত্তারক্ষীরা জানান, “রাত ১২ নাগাদ পনেরো-কুড়ি জন দুষ্কৃতী গোডাউনে হানা দেয়। আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে একটা ঘরে বন্ধ করে দেয় দুষ্কৃতীরা। তারপর গোডাউনের তালা ভাঙ্গে।”

এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় অন্ডাল থানার পুলিশের একটি টহলদারি দল। পুলিশ আসার আগেই দুষ্কৃতী দলটি চম্পট দেয়। খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে জেকে রোপওয়ের দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা আধিকারিকরা পৌঁছায়। নিরাপত্তা আধিকারিক ইউকে পান্ডে জানান,” গোডাউনে সংস্থার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম রাখা থাকে। তিনজন নিরাপত্তারক্ষীকে বেঁধে রেখেছিল। তারপর ৪ টা গোডাউনের তালা ভেঙ্গে গোডাউনে লুটপাট চালায় দুষ্কৃতীর দলটি। চুরি যাওয়া জিনিসের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।” অন্ডাল থানার পুলিশ জানিয়েছে,
“ঘটনার তদন্ত চলছে।”
উল্লেখ্য, ১৯৬৮ সাল থেকে রোপওয়ের মাধ্যমে কয়লা খনিতে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বালি ভরাটের কাজ করত জেকে রোপওয়ে সংস্থা। রাষ্ট্রায়ত্ত ইসিএলেরই শাখা সংস্থা জেকে রোপওয়ে। দামোদরের অন্ডালে মদনপুর ও রামপ্রসাদপুরে রয়েছে বালি তোলার ঘাট। সেখান থেকে অন্ডাল, পান্ডবেশ্বর ও লাউদোহায় বিভিন্ন ভুগর্ভস্থ কয়লাখনিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বালি পরিবহন করত রোপওয়ে মাধ্যমে। গত ২০১১ সাল থেকে রোপওয়ে মাধ্যমে বালি পরিবহন বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে লিজ নেওয়াঘাট থেকে লরি মাধ্যমে বালি পরিবহন কাজ চলছে। রোপওয়ের কাজ বন্ধ হওয়ায় সমস্ত রকম পরিকাঠামোয় খুল্লামখুল্লা পড়ে রয়েছে। মরিচা পড়ে যেমন নষ্ট হচ্ছে। তার থেকেও ভয়ঙ্কর, নজরদারির অভাবে মাফিয়াদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। অবাধে চুরি যাচ্ছে রোপওয়ের বিভিন্ন স্টেশনের যন্ত্রাংশ, ডুলি, তার, বৈদ্যুতিক ট্রন্সফরমার, টাওয়ারের মতো নানান মূল্যবান সামগ্রী। নিরাপত্তার অভাবে মুক্তাঙ্গন। গভীর রাতে লোহা চোরদের অবাধে অপারেশন শুরু হয়। গ্যাস কাটার দিয়ে কাটিং করে গাড়ি ভর্তি করে ঘন্টা দুয়েকেই পগারপাড় হয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। জেকে রোপওয়ের বিভিন্ন ষ্টেশনে অধিকাংশ যন্ত্রংশ চুরি গিয়েছে।

২০১৯ সালের ২৬ মার্চ অন্ডালের পলাশবন দু’নম্বর রেলগেটের সামনে জেকে রোপওয়ের লোহা চুরির জেরে লাইনের ওপর পড়ে যায় লোহার তার। তার জেরে অন্ডাল- জসিডি রুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরে রেল কর্তৃপক্ষ তৎপরতার সঙ্গে ওই তার সরিয়ে রেল পরিষেবা চালু করে। পর পর চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে কর্তৃপক্ষের ভূমিকায়। এক কথায় নজরদারি অভাবে মাফিয়দের স্বর্গরাজ্য। অবাধে লুট হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত কয়লা উত্তোলক সংস্থার অধীনে থাকা বালি পরিবহনের হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি। যদিও এ বিষয়ে ইসিএলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

