রাজেন রায়, কলকাতা, ৩১ মার্চ: দ্বিতীয় দফায় পশ্চিম মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামকে নিয়ে রীতিমতো টেনশন রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। এই এলাকায় যাতে কোনওরকম অশান্তি না হয়, তার জন্য সবরকম ব্যবস্থা নিতে চাইছে নির্বাচন কমিশন। নন্দীগ্রামজুড়ে জারি করে দেওয়া হল ১৪৪ ধারা। সেই সঙ্গে নন্দীগ্রাম থানার দায়িত্বে নিয়ে আসা হল পুলিশ সুপার পদমর্যাদা সম্পন্ন পুলিশ আধিকারিক নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠীকে। যিনি এর আগে নির্বাচনের কলকাতা বন্দর এলাকার গন্ডগোল সামলানোর দায়িত্ব খুব ভালোভাবে সামলে ছিলেন।
সেই সঙ্গে কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, নন্দীগ্রামের ৩৫৫টি বুথের প্রত্যেকটিতে থাকবে ৪জন করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। ২২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকছে শুধুমাত্র নন্দীগ্রামের জন্য। সেই সঙ্গে এদিন বিকাল ৫টা থেকেই বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে হলদিয়া-নন্দীগ্রাম ফেরি সার্ভিসও।
রাজ্যের দ্বিতীয় দফার ভোটে যে ৩০টি কেন্দ্রে আগামীকাল ভোট নেওয়া হবে তার মধ্যে সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে নন্দীগ্রাম। এলাকায় ঢোকার মুখে যেমন শুরু হয়েছে নাকা চেকিং, তেমনি করা হচ্ছে ভিডিওগ্রাফিও। পাশাপাশি এদিন থেকেই সেখানে শুরু হয়ে গিয়েছে হেলিকপ্টারে করে কমিশনের বিশেষ নজরদারি। নন্দীগ্রামের ৩৫৫টি বুথের জন্য মোতায়েন করা হয়েছে মোট ২২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রতিটি বুথে থাকবেন ৪জন করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান এবং একজন করে মাইক্রো অবজার্ভার। ৭৫ শতাংশ বুথেই আবার ওয়েব কাস্টের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে। এছাড়াও নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য কমিশন ১ জন করে সাধারণ পর্যবেক্ষক, পুলিশ পর্যবেক্ষক ও ব্যয় পর্যবেক্ষক নিযুক্ত করেছে। মঙ্গলবার ৪ জেলার ডিএম-এসপি এবং আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেন রাজ্যের মুখ্যসচিব ও রাজ্য পুলিশের ডিজি। বুধবার সকাল ছ’টা থেকে ২ এপ্রিল সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত নেটওয়ার্ক ঠিক রাখতে বলা হয়েছে টেলিফোন সংস্থাগুলিকেও। সেই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত সংখ্যায় থাকবে ফ্লাইং স্কোয়াডও। যেভাবেই হোক সুষ্ঠুভাবে নন্দীগ্রাম পার করাতে চায় নির্বাচন কমিশন।

