সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১৩ নভেম্বর: করোনা আবহের মধ্যেই স্কুল খুলছে রাজ্যের সঙ্গে জেলা পুরুলিয়াতেও। তাই সরকারি নির্দেশ ও পরামর্শ মেনেই স্কুলগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। স্কুল কক্ষ সংস্কার, মেরামতির সঙ্গে জীবাণুমুক্তকরণ, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। কোনও রকম শিথিলতা নয় বরং সুরক্ষিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই বার্তা অভিভাবকদের কাছে পৌঁছে দিতে তৎপর হয়েছে স্কুলগুলি। আজ পুরুলিয়া জেলার বিভিন্ন স্কুলে সেই তৎপরতা লক্ষ্য করা গিয়েছে।
পুরুলিয়া শহরের চিত্তরঞ্জন হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিবেকানন্দ চট্টোপাধ্যায় স্কুল ভবন সংস্কার ও জীবাণু মুক্তকরণের কাজের তদারকি করতে গিয়ে বলেন, ” স্কুলে ছাত্রদের আসার আগ্রহ এবং আস্থা ফিরিয়ে আনতে তারা বদ্ধপরিকর। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ৬০০ ছাত্র রয়েছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে শ্রেণি কক্ষ দ্বিগুন করা হয়েছে। শিক্ষকদের নিয়ে গড়া পর্যবেক্ষণ দল গড়া হয়েছে। তাঁরা স্কুল চলাকালীন ছাত্রদের উপর নজর রাখবেন। যাতে কোনও ভাবেই করোনা বিধি নিষেধ লঙ্ঘিত না হয়।”

পুরুলিয়া জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক বারিদ বরণ মিশ্র বলেন, “বোর্ডের নির্দেশিকা মতো স্কুল খোলার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি। মাস্ক, স্যানিটাইজার, থার্মাল গান প্রভৃতি সরঞ্জাম ছাত্রদের জন্য রাখা হয়েছে। বেঞ্চ প্রতি একজন ছাত্র বসবে, সেইভাবে রুটিন করা হয়েছে।”
টানা স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষক ছাত্রের মধ্যে একটা শূন্যস্থান তৈরি হয়েছে। পুরুলিয়া শহরের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা কম হলেও গ্রামাঞ্চলে সেই সব ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যাটা বেশি যারা অনলাইন ক্লাস করতেই পারেনি। তাই বিশেষ করে ওই সব ছাত্র ছাত্রীর ক্ষেত্রে কাঙ্খিত ১৬ নভেম্বর স্কুল খোলার দিনটি। যদিও শিক্ষক মহলের আশঙ্কা প্রথম দিকে স্কুলে ছাত্র ছাত্রীর উপস্থিতির হার খুব কম থাকবে। ‘সুরক্ষিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে প্রমাণ করার দায়িত্ব থেকেই গেল স্কুল কর্তৃপক্ষের উপর।

