৮৫ শতাংশ পড়ুয়ার টিকাকরণ ও বিশেষজ্ঞদের মত নিয়ে স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, আদালতে জানালো রাজ্য, পরবর্তী শুনানি ১৪ ফেব্রুয়ারি

আমাদের ভারত, ২৮ জানুয়ারি:রাজ্য সরকারও স্কুল খুলতে আগ্রহী। তবে স্কুল খোলার ব্যাপারে তারা সাবধানী। এখনও পর্যন্ত অনেক পড়ুয়াই ভ্যাকসিন পায়নি। যারা পেয়েছে টিকা পাওয়ার পর তাদের পনেরো থেকে কুড়ি দিন নজরে রাখতে হবে। তাই স্কুল খোলা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আরো কিছু সময় প্রয়োজন। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে এমনটাই জানিয়েছে রাজ্য সরকার। ফলে ১৪ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।

এখনো অবধি স্কুল খোলার দাবিতে চারটি মামলা দায়ের হয়েছে হাইকোর্টে। প্রতিটি মামলার ক্ষেত্রেই রাজ্যের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। রাজ্যের তরফে এজি সৌমেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় আদালতে জানান, রাজ্য সরকার স্কুল খুলতে আগ্রহী। কিন্তু কেন স্কুল খোলা যাচ্ছে না তার ব্যাখ্যাও তিনি দেন।‌ এরপর প্রধান বিচারপতির নির্দেশ দেন ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় দেওয়া হলো এর মধ্যে স্কুলছুট নিয়ে সব তথ্য দেবে রাজ্য। একই সঙ্গে স্কুল খোলার বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কতদূর কার্যকর হয়েছে তাও জানাবে।

আদালতে মামলাকারিদের পক্ষে আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য সওয়াল করেন। তিনি বলেন, ছাত্রদের মনের গতিবিধির নির্ভর করছে স্কুল খোলার উপর। এই পরিস্থিতিতে কিশোর কিশোরীদের মধ্যে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। স্কুল ড্রপ আউটের সংখ্যা বেড়েছে। তাই এই পরিস্থিতি থেকে বেড়িয়ে আসতে শীঘ্রই স্কুল খোলা অত্যন্ত প্রয়োজন। এভাবে করোনার অজুহাতে আর স্কুল বন্ধ করে রাখা চলবে না। স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে স্কুল খোলা হোক। চিকিৎসকরাও স্কুল খোলার পক্ষে বলে আদালতে জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে এজি এর পাল্টা বলতে গিয়ে জানান, রাজ্য সরকার স্কুল খোলার ব্যাপারে আগ্রহী। অনলাইনে আর স্বশরীরে পড়াশোনা করা সম্পূর্ণ আলাদা। কিন্তু রাজ্য যখন কোনো সিদ্ধান্ত নয় অনেক ভেবেচিন্তে নিতে হয়। স্কুল খুলতে গেলে শিক্ষক, স্কুল কর্তৃপক্ষ, নন টিচিং স্টাফ, অভিভাবকদের অনুমতি নিতে হবে। পূজার ছুটির পর স্কুল খুলতে গেলে উল্টে মামলা হয়েছে, কেন স্কুল খোলা হচ্ছে তা নিয়ে।

ছোটদের টিকাকরণ শুরু হলেও ১৫-১৮ বছর বয়সী এমন ৪৫ শতাংশের ওপর ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে যাদের টিকা দিতে হবে। এখনো অব্দি ৩৩ লক্ষের কিছু বেশি টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছে। এক্ষেত্রে জেলাগুলি অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে।

শিক্ষক সংগঠনের নেতা সৌগত বসু জানিয়েছেন, বাচ্চাদের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে এমনটা নয়। দু’বছরের পরিসংখ্যানে তেমনটাই দেখা গিয়েছে।‌ রাজ্য কেন এখনো পর্যন্ত স্কুল খুলতে চাইছে না তারও বিজ্ঞানসম্মত যুক্তি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। হয়তো রাজ্যের অন্য কোনো ভাবনা চিন্তা রয়েছে। তাই এরকম বক্তব্য রেখেছে। স্কুল খোলার জন্য পড়ুয়া অভিভাবকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ চাপ তৈরি করছে‌ বিদ্যালয় প্রশাসনের উপর। সরকার আর কতদিন মুখ ফিরিয়ে থাকবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *