দেশজুড়ে স্কুল খুলে যাক! কিভাবে করোনা পরিস্থিতিতে চলবে পঠন-পাঠন? পরামর্শ সহ সরকারকে চিঠি মনোচিকিৎসদের

আমাদের ভারত, ৬ আগস্ট:দেশজুড়ে সমস্ত স্কুল কলেজে খুলে দেওয়া হোক। এই আবেদন জানিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে চিঠি দিল মনোচিকিৎসকদের সংগঠন ইন্ডিয়ান সাইকিয়াট্রিক সোসাইটি। অতিমারীর কারণে প্রায় দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে স্কুল-কলেজ বন্ধ। আর তাতেই মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ছে পড়ুয়ারা। কম বয়সের ছাত্র-ছাত্রীরাই বেশি অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। প্রি প্রাইমারী বাচ্চাদের জন্য সপ্তাহে দুদিন, প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণীর পড়ুয়াদের জন্য তিন দিন, নবম ও দশম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের জন্য সপ্তাহে পাঁচদিন স্কুল খোলা যেতে পারে বলে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন্দ্রীয় মহিলা ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রক কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের কাছে মনোচিকিৎসকরা চিঠি দিয়ে এই পরামর্শই দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের এই সংগঠনের এই চিঠি পাঠানো হয়েছে দেশের সব কটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের কাছেও।

করোনার দ্বিতীয় মঢেউ শেষের দিকে চলে এলে ও তৃতীয় ঢেউ নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে দেশজুড়ে। এই পরিস্থিতিতে কোভিড বিধি মেনে সমস্ত রকম সতর্কতা বজায় রেখে কিভাবে স্কুল কলেজ খোলা যায় সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে চিঠিতে। বিশেষজ্ঞ মহলের পরামর্শ ৫০ % পড়ুয়া নিয়ে স্কুলে ক্লাস করা যেতে পারে। যাদের রোল নম্বর জোড় সংখ্যা তারা একদিন আসবে স্কুলে, বাকিরা বাড়ি থেকে অনলাইনে ক্লাস করবে। আবার অন্যদিন বিজোড় সংখ্যার রোল নম্বর যাদের তারা স্কুলে এসে ক্লাস করবে। তবে যারা স্কুলে আসতে পারবে না তাদের জন্য যাতে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা থাকে তার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্কুল কলেজ খোলা হলে নিয়মিত ছাত্র-ছাত্রী,শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মীদের শরীরের তাপমাত্রা মাপা জরুরী। কোন পড়ুয়া বা কর্মীর শরীরে কোভিডের উপসর্গ ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে তা পরীক্ষার জন্য রাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট কিট স্কুলে রাখতে হবে।

কোভিড উপসর্গ চিহ্নিতকরণের জন্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি
ক্লাস রুমের জানলা দরজা বই রাখার জায়গার পাশাপাশি চেয়ার-টেবিলসহ বাকি সব জিনিস যাতে ঘনঘন স্যানিটাইজ করা হয় তারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে চিঠিতে।

বিশেষজ্ঞরা চিঠিতে জানিয়েছেন করোনা পরিস্থিতিতে অনলাইনে পড়াশোনা, খেলাধুলা বন্ধ থাকায় শিশুদের শরীর ও মনে বড় প্রভাব পড়েছে। একটানা মোবাইল বা কম্পিউটার স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখের সমস্যা দেখা গেছে। মাথা যন্ত্রণার মতো উপসর্গ দেখা গেছে অনেকের। বাইরে না বেরোনোর কারণে অনেক শিশুর শরীরে ভিটামিন ডি-এর অভাব দেখা গেছে।মোবাইল গেম খেলা এমনকি পর্ণে-আসক্ত হবার প্রবণতা বেড়েছে। এই বিষয়গুলি নজরে দেখে স্কুলে পঠন-পাঠন ছাড়াও জাতীয় পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যক্রম আয়োজন করা যায় তার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মাঝেমধ্যে কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *