২-মের পর ভোটে হেরে সায়নী কন্ডোমের দোকান দেবেন, কটাক্ষ অগ্নিমিত্রা পালের

আমাদের ভারত, ৪ এপ্রিল: একুশের নির্বাচন ঘিরে এখন উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। প্রায় প্রতিদিনই বাজে ভাষায় একে অপরকে আক্রমণ করার উদাহরণ রাখছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা। এরই মধ্যে আবারও বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বি তৃণমূলের সায়নী ঘোষকে নাম না করে আক্রমণ করে বললেন, নির্বাচনে হেরে কন্ডোমের দোকান দেবে সায়নী। অগ্নিমিত্রার এই মন্তব্যে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। একদিকে সায়নী ঘোষ যেমন আসানসোল দক্ষিণের তৃণমূলের সেলিব্রিটি প্রার্থী এবং তেমনি অগ্নিমিত্রা পাল আসানসোল দক্ষিণের বিজেপির ভুমিকন্যা প্রার্থী।

সায়নীর উদ্দ্যেশ্যে অগ্নিমিত্রা বলেছেন, “উনি তো রাজনীতির জানেন না। অবশ্য না জানাই স্বাভাবিক। কারণ এতদিন সিনেমা করে এসেছেন। এরপর ২ মে ভোটের রেজাল্ট বেরোনোর পর তিনি হয়তো কন্ডোমের দোকান খুলবেন বা অন্য কোনও প্রফেশনে যাবেন বা হয়ত সিনেমাটাই করবেন।” সায়নী ঘোষের মনোনয়নপত্র দাখিল নিয়েও কটাক্ষ করেছেন অগ্নিমিত্রা। তিনি বলেন, “সায়নী নিজেই জানেন না যে তিনি কোনও দলের হয়ে প্রচার করছেন? কোন দলের প্রার্থী হয়েছেন? না জানাটাই স্বাভাবিক। কারণ দু’বছর আগে এই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি তুলোধোনা করেছিলেন নন্দন চত্বরে দাঁড়িয়ে। আর এখন দলের টিকিট পেয়ে মমতা ব্যানার্জিকে গুরুমা ভাবছেন”।

তিনি আরোও অভিযোগ করেন, “করোনার সময় বিজেপি সাংসদ, বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, বিজেপি বিধায়ক কাউকেই কাজ করতে দেওয়া হয়নি।” এমনকি করোনার সময় ত্রাণ দিতে গেলেও তাঁদের বাধা দেওয়া হয়েছে।

তবে অগ্নিমিত্রার এই আক্রমণের চুপ করে থাকেননি আসানসোল দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী সায়নী ঘোষ। পাল্টা মন্তব্য করেছেন তিনিও। সায়নী বলেন, “অগ্নিমিত্রা পাল এই ধরনের মন্তব্য করে নিম্ন রুচির পরিচয় দিচ্ছেন। নিজের বংশ পরিচয় দিচ্ছেন এবং তার বেড়ে ওঠা কিভাবে তা বোঝাচ্ছেন। যত দিন যাচ্ছে তত প্রকাশ্যে আসছে যে অগ্নিমিত্রা পাল কত নিম্নমানের রাজনীতিবিদ। উনি আমায় বাচ্চা বলতেন, আমার থেকে এত সিনিয়র হয়েও কিভাবে এই মন্তব্য করছেন জানি না। আমি বিষয় নিয়ে মন্তব্য করে নিজেকে নিচে নামাতে চাই না। ”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় এইডসের প্রচার করতে তিনি শিবলিঙ্গে কন্ডোম পড়ানোর ছবি পোস্ট করে লিখেছিলেন বুলাদির শিবরাত্রি। এই পোস্ট ঘিরে নেটপাড়ায় বির্তকের ঝড় ওঠে। সায়নীর বিরুদ্ধে হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার অভিযোগ ওঠে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি ও বিজেপি নেতা তথাগত রায়ের মধ্যে তুমুল বিতর্ক চলে। এই ঘটনা থানা পর্যন্ত গড়ালেও শেষ পর্যন্ত সায়নী পোস্ট ডিলিট করে দেন। তিনি সাফাই দেন যে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করতে চাননি। ভোটের আগেই সায়নীর বিরুদ্ধে প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে এই ঘটনাকেই আবার উস্কে দিলেন অগ্নিমিত্রা, বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *