জে মাহাতো, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১০ জুন: এক সপ্তাহ আগে মাধ্যমিকের ফলাফলে রাজ্যের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিলো পশ্চিম মেদিনীপুর। উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলেও দ্বিতীয় স্থান ধরে রাখলো এই জেলা।
শুক্রবার উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পর দেখা গেল ১ থেকে ১০ এর মধ্যে রয়েছে ২৭২ জন। সেই তালিকায় রাজ্যের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিংলার জলচক নাটেশ্বরী নেতাজি বিদ্যায়তনের ছাত্র সায়নন্দীপ সামন্ত, তার প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৭। সায়নন্দীপ শুক্রবার সকালে টিভিতে খবর শোনার পর জানতে পারে সে রাজ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে। এই খবরে পরিবারে সকলেই মেতে ওঠে খুশীর আনন্দে। সবংয়ের বলপাই গ্রামের বাড়ি থেকে বাবা মদন সামন্তকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে মার্কশিট নিতে পৌঁছে যায়। বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতেই সায়নদ্বীপকে নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে সহপাঠীরা সবাই উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন।

সায়নদ্বীপ জানিয়েছে, লকডাউনের সময় বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষক তাকে সবদিক থেকে সহযোগিতা করেছেন। ছাত্র শিক্ষকদের মধ্যে নিয়মিত অনলাইন প্রশ্নোত্তর পর্ব চালু রাখা হয়েছিল। আগামী দিনে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে সে পড়াশোনা করতে চায়। সারাদিনে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা পড়াশোনা করেই উচ্চ মাধ্যমিকে তার এই সাফল্যে এসেছে। তার বাবা মদন সামন্ত জানিয়েছেন, সারাদিনে খুব বেশি সময় পড়াশোনা করতো না সায়নদ্বীপ। পাঁচ-ছয় ঘণ্টা ধরে যেটুকু সময় পড়তো মনোযোগ দিয়েই পড়াশোনা করতো। পড়াশোনা ছাড়া তার অন্য কোনো বিশেষ চাহিদা ছিল না। মাঝেমধ্যে গল্পের বই পড়তো। স্কুলের মাস্টারমশাইদের কথা বা নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করত।
সায়নদ্বীপের মা রিংকু সামন্ত বলেন, ছেলের সাফল্যে পরিবারের সবাই খুব খুশি হয়েছি। ছেলে ভালো রেজাল্ট করবে এই বিশ্বাস আমাদের ছিল, কিন্তু একেবারে দ্বিতীয় হবে এরকম ভাবিনি।

ওই বিদ্যালয় থেকেই রাজ্যে এক থেকে দশের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে ২২ জন ছাত্র-ছাত্রী। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তরুণ কুমার চক্রবর্তী জানান, ভালো রেজাল্ট হবে জানতাম, তবে একেবারে দ্বিতীয়, তৃতীয় সহ এতটা ভালো হবে ভাবতে পারিনি। এই প্রথমবার ছাত্র-ছাত্রীদের ফলাফলে আমরা যারপরনাই আনন্দিত।
রাজ্যে দ্বিতীয় হওয়ায় একদিকে সায়নদীপ ও তার পরিবার যেমন উচ্ছ্বসিত, অন্যদিকে ফলাফলের জয়জয়াকারে বিদ্যালয়ের নাম উজ্জ্বল করায় খুশি বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকা এবং অভিভাবকরাও।

