আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ৪ মার্চ : মেডিকেল পড়তে গিয়ে যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে বীজপুরের সায়ন ও পূজা। উদ্বিগ্ন দুই পরিবার। যুদ্ধ বিধস্ত ইউক্রেন থেকে একে একে ঘরে ফিরছেন ভারত তথা দেশের বহু পড়ুয়ারা। তবে এখনো অনেক ভারতীয় আটকে ইউক্রেনে।মেডিকেল নিয়ে পড়তে গিয়ে যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে পড়েছেন বীজপুর থানার কাঁচড়াপাড়া বাগমোড় বাজার রোডের বাসিন্দা ২১ বছরের সায়ন ঘোষ। ২০২১ সালের ২৪ নভেম্বর দিল্লি থেকে বিমানে ইউক্রেনে পাড়ি দিয়েছিল সায়ন। সেখানে ইউক্রেনের লাবিব শহরে সে থাকতো এবং ডাক্তারি নিয়ে পড়াশোনা করত। তবে অনেক ছাত্র ছাত্রী নিরাপদে বাড়ি ফিরে এলেও তাদের ছেলে ফিরে না আসায় চিন্তিত সায়নের বাবা মা। এমন কি সায়নের চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সায়নের বাড়ির বয়স্ক সদস্যরা।
সায়নের বাবা সুশান্ত ঘোষ জানান, ১৭ ঘন্টা ইউক্রেন চেকপোস্টে আটকে থাকার পর, বৃহস্পতিবার সকালে হাঙ্গেরীতে ইন্ডিয়া অ্যাম্বেসি ছেলেকে পিকআপ করেছে। তবে নেট ঠিকমতো না চলায় ছেলের সাথে যোগাযোগ করতে পারছে না। শুধু হোয়্যাটস অ্যাপে ম্যাসেজ দিয়ে জানাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ছেলেকে ঘর দেওয়া হয়নি। তাদের ছেলে এখনও খুব কষ্টের মধ্যেই আছে।
তিনি বলেন, “আমার ছেলে এবং তার বেশ কিছু ভারতীয় বন্ধু হাঙ্গেরীতে পৌঁছেছে আর সেখানে ভারতীয় দূতাবাসের তরফ থেকে তাদের নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে যতক্ষণ না ছেলে সুস্থ্য ভাবে বাড়ি ফিরছে ততক্ষণ আমাদের উদ্বেগ কমবে না।”
অপর দিকে বীজপুর থানার হালিশহর জেঠিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘোষপাড়ার বাসিন্দা ১৯ বছরের পূজা ঘোষও ইউক্রেনে মেডিকেল পড়তে গিয়ে আটকে পড়েছে। জেফরোজিয়া স্টেট মেডিকেল ইউনিভার্সিটির প্রথম বর্ষের ছাত্রী পূজা।
পূজার মা বর্ণালী দেবী জানান, ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর মেয়ে মেডিকেল পড়তে ইউক্রেনে গিয়েছিল। যুদ্ধের সময় বাঙ্কারে থাকতে হয়েছিল। এখন হাঙ্গেরীতে ইন্ডিয়া অ্যাম্বেসিতে মেয়ে রয়েছে। মেয়ে আপাতত নিরাপদে আছে। এদিন বর্ণালী দেবী বলেন, “আমার মেয়ে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে চেষ্টা করছিল দেশে ফেরার। কিন্তু ওখানে পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছিল। ঠিক মত খাবার , জল পাচ্ছিল না। তবে এখন হাঙ্গেরী বর্ডার পার করে ভারতীয় দূতাবাসে আছে। সেখানে ওদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু আমার মেয়ের মত অনেক ছাত্র ছাত্রী এখনো খারকিতে আটকে আছে। সরকার সবাইকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে দিক এটাই আবেদন।”
তবে ভারত সরকারের কাছে দুই ঘোষ পরিবারের দাবি, সায়ন- পূজাসহ সকল বাচ্চাদের শীঘ্রই বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হোক।
তবে এই উদ্বেগের মধ্যে স্বস্তি মিলেছে সোদপুরে ঋত শাহের পরিবারের সদস্যদের। ইউক্রেন থেকে ডাক্তারি পড়ুয়া ফিরে আসলো সোদপুরের বাড়িতে, খুশি পরিবারের লোকজন।
অবশেষে ইউক্রেনের ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির অভিজ্ঞ্যতা নিয়ে ঘরে ফিরলেন উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুরের ঋত শাহ। তিন বছর আগে ডাক্তারি পড়তে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ইউক্রেন গিয়েছিল সোদপুর গীর্জা এলাকার বাসিন্দা ঋত শাহ। বিগত বছরগুলিতে ভালোভাবে পড়াশোনা করে দিন কাটছিল তার। কিন্তু হঠাৎ করেই ইউক্রেনে যুদ্ধ পারস্থিতি শুরু হওয়ায় চরম অনিশ্চিত হয়ে গেছিল সব কিছু। দিন গড়াতেই রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা শুরু করে আর শুরু হয় যুদ্ধ। এদিকে মেয়েকে কিভাবে সুস্থ্য সবল ভাবে বাড়ি ফিরিয়ে আনা যায় তার জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন ঋতের বাড়ির লোকেরা। অপর দিকে যুদ্ধের সময় আতঙ্কে ছিলেন ঋত শাহ সহ তার সহপাঠীরা। অবশেষে গতকাল রাতে ইউক্রেন থেকে বিমানে করে ফেরেন কলকাতা বিমানবন্দরে। অবশেষে ঠিক ভাবে বাড়ি ফিরে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিলেন ঋত শাহ ও তার পরিবারের সদস্যরা।
এদিন বাড়িতে ফিরে এসে ইউক্রেনে যুদ্ধের সময় অভিজ্ঞতা জানালেন ডাক্তারি পড়ুয়া ঋত শাহ। তিনি এদিন সংবাদ মাধ্যমের সামনে বলেন,
“আমি ও আমার সহ পাঠীরা যুদ্ধের প্রথম দিকে অ্যাম্বাসির কাছেই তৈরি হওয়া বাঙ্কার গুলোতে আশ্রয় নিতাম রাতের বেলা। আমরা ওই বাঙ্কারে বসে সাইরেনের আওয়াজ পেতাম। বোমা নিক্ষেপের শব্দ পেতাম কিন্তু কিছু দেখতে পারিনি। এরপর ভারত সরকার ও আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে আমি ভালো করে বাড়ি ফিরতে পেরেছি। প্রধান মন্ত্রী আর মুখ্যমন্ত্রী না থাকলে আমি এত দ্রুত দেশে ফিরতে পারতম না। এর জন্য ওনাদের অনেক ধন্যবাদ।”

