আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগনা, ১৬ ফেব্রুয়ারি:
করোনা সময় কালে লকডাউন থেকে শুরু করে করোনা পরিস্থিতিতে তাঁদের ভূমিকার প্রশংসা করেছে আমজনতা। শুধু তাই নয় স্বাস্থ্যকর্মী সাফাই কর্মী সকলের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। গৃহবন্দি ছিল সাধারণ মানুষ তবে স্বাস্থ্য কর্মী, ডাক্তার, নার্স এবং পুলিশ নিজেদের জীবনকে বাজি রেখে পরিষেবা দিয়েছেন। স্বাস্থ্য কর্মী ডাক্তারদের জীবনহানীর ঘটনাও ঘটেছিল, কিন্ত তাঁরা কাজে অবিচল ছিলেন। তাই তাঁদের অভিনন্দন জানিয়ে তাঁদের কাজকর্মকে থিমের মাধ্যমে তুলে ধরেছে উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙার খাটুরা উত্তরপাড়া সরস্বতী পুজো কমিটি।

গোবরডাঙায় বেশ কিছু বারোয়ারি সরস্বতী পুজো হয়। এবার খাটুরা উত্তরপাড়া সরস্বতী পুজো কমিটির পূজা এবার ৫৯ তম বর্ষে পা দিল। গতবছর তাদের থিমে স্থান পেয়েছিল দক্ষিণেশ্বর মন্দির। এবার এই পুজো কমিটির থিম কোভিড হাসপাতাল। কোভিড হাসপাতালের মধ্যেই বাগদেবীর আরাধনার প্রস্তুতি নিয়েছে খাঁটুরা উত্তরপাড়া সরস্বতী পূজা কমিটি।

বাঁশের চটা দিয়ে তৈরি কুলো, কয়েকশো মাস্ক দিয়ে তৈরি করা হয়েছে মন্ডপ। মন্ডপের একেবারে উপরে করোনাভাইরাসের কাল্পনিক চিত্র রয়েছে, যেখানে দু’দিক থেকে দুটো ইনজেকশনের সিরিঞ্জ তাতে গেঁথে দেওয়া হয়েছে। মোট ৩৪টি মূর্তি দিয়ে তৈরি দশটি থিমের মাধ্যমে কোথাও লকডাউন ভঙকারীদের তাড়া করছে পুলিশ, কোথাও মাস্ক পড়া জরুরি তা বোঝানো হচ্ছে, আবার কোথাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে করোনার সচেতনতা প্রচার করছে স্বাস্থ্যকর্মীরা।

পাশাপাশি লালারস সংগ্রহ থেকে শুরু করে রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মী ও সাফাই কর্মীদের অভিযান এবং সব শেষে ভ্যাকসিন প্রদান সমস্ত কিছুই তুলে ধরা হয়েছে থিমের মাধ্যমে।

তিনদিনের পুজোতে জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এই পুজো কমিটি। তবে এবার করোনার কারণে তা বন্ধ রাখা হয়েছে। অনুষ্ঠান হয় সেই মাঠে বিনে পয়সায় বিভিন্ন স্টল করে দেওয়া হচ্ছে হকারদের জন্য।

উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন জায়গায় মেলা বন্ধ হওয়ায় সমস্যায় পড়েছে মেলাতে আসা অস্থায়ী দোকানদাররা, তাই তাদের কথা মাথায় রেখেই এই দোকান করা হয়েছে।

যেখানে প্রসাধনী দ্রব্য থেকে পিঠেপুলি, হস্তশিল্পের সামগ্রী সবই পাওয়া যাবে। প্রায় তিন মাস ধরে মূর্তি তৈরির কাজ করেছে এলাকারই শিল্পী নয়ন পাল।

পুজো কমিটির তরফে বুধবার গোবরডাঙা এলাকার শতাধিক কোভিড যোদ্ধাকে সম্মান জ্ঞাপন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। মেলা ঘিরে আশেপাশের বেশ কয়েকটি এলাকার মানুষ হাজির হন খাটুরা উত্তরপাড়ায়।


