অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, কলকাতা, ২৪ নভেম্বর: ৫১ বছর আগে ঘটা সাঁইবাড়ি হত্যাকান্ড আজও ইতিহাসে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সহিংসতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। কংগ্রেসের একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে বর্ধমানের সাঁই পরিবারের ৩ ভাই সুপরিচিত ছিললেন। এই খুনের ব্যাপারে অভিযুক্ত হন সিপিএম নেতা-কর্মীরা।
অন্যদিকে, ২০১৯-এর ১৯ জুন রাজনৈতিক সংঘর্ষের জেরে রক্তাক্ত চেহারা নেয় উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি। তৃণমূল ও বিজেপির সংঘর্ষে মৃত্যু হয় উভয় পক্ষের তিন জনের।আহত হয় আরও কয়েকজন।
পশ্চিমবঙ্গের এ রকম হিংসার কিছু খন্ডচিত্র নিয়ে বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ শাখার অন্যতম সম্পাদক সংঘমিত্রা চৌধুরী তৈরি করেছেন ‘সাঁইবাড়ি থেকে সন্দেশখালি’। বুধবার গোয়ায় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রোৎসবে প্রশংসিত হল ৪২ মিনিটের এই ছবি। দেখানো হল ‘আইনক্স’-এ।

ছবির পরিচালিকা সংঘমিত্রা গোয়া থেকে এই প্রতিবেদককে জানান, “সাঁইবাড়ি থেকে সন্দেশখালি ছবিটি তৈরির প্রথম অনুপ্রেরণা আমাকে দিয়েছিলেন আমার এক দাদা কাঞ্চন ব্যানার্জি। তিনি আমেরিকার, বস্টনে থাকেন। গত ৫০ বছরে গোটা পশ্চিমবঙ্গে যে কয়টি নারকীয় হত্যাকান্ড এটা তারই চলচ্চিত্রায়ন। প্রায় এক বছর ধরে গবেষণা করে এই ছবির চিত্রনাট্য তৈরি হয়েছে। ছবিটি ডকু ফিচার আকারে পরিবেশন করা করা হল। বেশ কিছু দৃশ্যকে আমরা পুনর্নির্মাণ করেছি যেমন সাঁইবাড়ি, মরিচঝাঁপি, নন্দীগ্রাম, সন্দেশখালি, প্রভৃতি জায়গার ঘটনাকে নতুন করে চিত্র রূপ দেওয়া হয়েছে।
ছবিটি তৈরি করার সময় অনেক রাজনৈতিক বাধা বিপত্তি এসেছে। করোনার সময় শুটিং করতে পারিনি বেশ কিছু দিন। কিন্তু তা সত্বেও ছবিটা আমরা খুব যত্নসহকারে তৈরি করেছি। সেন্সর করতে গিয়ে আর এক বিপত্তি। অনেক সময় লেগেছে কারণ এটা কলকাতা সেন্সার অফিস দায়িত্ব এড়িয়ে গেছে। আবার আমাকে মুম্বাই সেন্সার অফিসে পাঠিয়ে তারপর সেন্সর করাতে হয়েছে।
ছবিটিকে যখন ইন্ডিয়ান প্যানোরমাতে পাঠাই তখন ভাবতে পারিনি যে এই ছবি মনোনীত হবে। আমি ‘বাংলা আবার’ এবং আমার সব কলাকুশলীদের প্রতি কৃতজ্ঞ এই ছবিটিকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সাহায্য করার জন্য। কেন্দ্রীয় তথ্যমন্ত্রক এবং উৎসব কমিটির কাছেও আমি কৃতজ্ঞ। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রোৎসবে ৪টি ফিচার আর ৩টি নন-ফিচার ছবি দেখানো হচ্ছে।“

