চোখে জল, রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারন সম্পাদক সম্রাট তপাদারের

আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ৮ মার্চ: দলে চূড়ান্ত অপমানিত হয়ে রাজনীতি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারন সম্পাদক সম্রাট তপাদার। দলের কর্মীদের সামনেই তিনি তৃণমূল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন। অভিমানের সুরে বলেন, দলে আমি বেমানান তাই রাজীতি ছাড়লাম।

এদিন ব্যারাকপুরের নাপিত পাড়ায় তৃণমূলের কর্মিসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে হঠাৎ কেঁদে ফেলেন প্রদেশ যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারন সম্পাদক সম্রাট তপাদার। সেখানে তিনি বলেন, “দলের জন্য যতটা পেরেছি করেছি। আমৃত্যু আমি তৃণমূলের সমর্থক হিসেবে থাকব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোট দেব। অভিষেক বন্দোপাধ্যায় আমার নেতা থাকবে। তবে দলে থেকে এই অবজ্ঞা অপমান সহ্য হচ্ছে না। লক ডাউনের সময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করেছি।”

তৃণমূল যুব শক্তি শাখার তৃণমূল কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক হিসেবে নদিয়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদের দ্বায়িত্ব সামলেছেন তিনি। দলের নির্দেশে বারংবার সংগঠনের কাজে ছুটে গেছেন তিনি। কর্মিসভা করেছেন কয়েকশ। সম্রাট তপাদার দলে টিকিট পাবেন এরকম প্রত্যাশা ছিল তাঁর অনুগামীদের। তবে দল তাকে টিকিট দেয়নি।

ব্যারাকপুরের নাপিত পাড়ার বাসিন্দা সম্রাট তপাদার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরে রাজনীতিতে এসেছিলেন। গত ২৮ বছর ধরে তিনি রাজনীতি করেছেন। প্রথমে জাতীয় কংগ্রেসের নেতা ছিলেন, পরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। তবে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছিলেন সম্রাট। সোমবার হঠাৎ কএএমিসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সম্রাট তপাদার দলের কর্মীদের সামনে ঘোষণা করেন, “আমি রাজনীতি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দলের মধ্যে থেকে যে অবজ্ঞা অপমান আমাকে সহ্য করতে হচ্ছে তা আর সহ্য হচ্ছে না। বাড়িতে পরিবারকেও সময় দিতে পারছিলাম না। আমি রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। এই রাজনীতিতে আমি বড় বেমানান। তাই নিজেকে মানিয়ে নিতে পারলাম না। দলের কর্মীদের ধন্যবাদ।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *