জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১১ আগস্ট: রাসায়নিক দিয়ে গেট বন্ধ রেখে কলা পাকানোর খবর চাউর হতেই নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। আপাতত কলা পাকানোর প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার নির্দেশ দিল প্রশাসন। একই সঙ্গে পাকানো কলা ও ব্যাবহার করা রাসায়নিকের নমুনা পাঠানো হয়েছে পরীক্ষাগারে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে কাঁকসার পানাগড়ে।
ঘটনার অভিযোগে জানা গেছে, গত কয়েকমাস আগে কাঁকসার পানাগড় গ্রাম এলাকায় একটি কলা পাকানোর প্রক্রিকরণ কারখানা তৈরী হয়েছে। বিশাল তার গোডাউন। এরাজ্যের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও ভিন রাজ্য থেকে নানান মরশুমি ফল আসে। সম্প্রতি কলা পাকানোর কাজ চলছিল। অভিযোগ, ওইসব ফল দ্রুত পাকানো ও নজরকাড়া রং আনার জন্য এক ধরনের রাসায়নিক ব্যাবহার করা হয়। সম্প্রতি বিষয়টি নজরে আসতেই সরব হয় পানাগড় নাগরিক মঞ্চ। এবং পানাগড় নাগরিক মঞ্চের পক্ষ থেকে স্থানীয় ব্লক প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। তাদের অভিযোগ,”সন্ধ্যার পর মূলত ওইসব ফলের মধ্যে কেমিক্যাল স্প্রে করা হয়। গোডাউনে বাইরের কোনও লোকজন যাওয়ায় কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ক্ষতিকারক কেমিক্যাল দিয়ে ফল পাকানোর জন্য গোপনে এধরনের কাজ করছে। ভোর হতেই ওইসব ফল প্যাকেট বন্দি হয়ে পানাগড়, বুদবুদ, গলসি, ইলামবাজারের মতো বাজারে চলে যাচ্ছে। সম্প্রতি হলুদ রংয়ের কলা এখান থেকে জোগান যাচ্ছে। মানুষের শরীরে এধরনের ক্ষতিকারক বিষ যাতে না যায়, তাই প্রশাসনের কাছে জানানো হয়েছে। প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করুক।”
জানা গেছে, কার্বাইড দিয়ে ফল পাকানোর ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। প্রশ্ন তাহলে কি ধরনের রাসায়নিক ব্যাবহার হয়? যার ব্যাবহারে ৩৫-৪০ ঘন্টায় সবুজ কলা হলুদ রংয়ের হয়ে পেকে যাচ্ছে।

বুদবুদ কৃষি বিজ্ঞান ও গবেষনাগারের বিজ্ঞানী ডঃ সুব্রত সরকার জানান, “কার্বাইড ব্যাবহার বন্ধ। ইথিলিন গ্যাস তৈরী করে এখন ফল পাকানো হয়। তাতে শরীরে সেরকম কোনও ক্ষতি হয় না।” এদিকে খবরে প্রকাশ হতেই নড়েচড়ে বসে কাঁকসা ব্লক প্রশাসন। প্রক্রিকরণ ওই কারখানা থেকে পাকানো কলা ও তাতে ব্যাবহার করা রাসায়নিকের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। কাঁকসা বিডিও সুদীপ্ত ভট্টাচার্য জানান, “আপাতত কারখানাটি বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট আসার পরই সব জানা যাবে।”


