আমাদের ভারত, ১৭ অক্টোবর: মঙ্গলবার সমকামী বিবাহকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে বড় রায় জানিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব কেন্দ্রের দিকেই ঠেলে আদালত জানিয়েছে, সংসদে এই নিয়ে আইন প্রণয়ণ হোক। আর আদালতের এই রায়কে একসাথে স্বাগত জানিয়েছে বিশ্বহিন্দু পরিষদের আন্তর্জাতিক কার্যকরী সভাপতি অলক কুমার ও শীর্ষস্থানীয় মুসলিম ধর্মগুরু মৌলানা সৈয়দ রশিদি সাজিদ। দু’ পক্ষই মনে করেছে সমকামীতা ভারতীয় সংস্কৃতির অংশ নয়। এটি বিদেশ থাকে আসা একটি সংস্কৃতি।
বিশ্বহিন্দু পরিষদের নেতা অলক কুমার বলেছেন, দুটি ছেলে বা দুটি মেয়ের মধ্যে সম্পর্ককে বিয়ে হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যায় না বলে সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণ করায় আমি খুশি।
কিন্তু এক কদম এগিয়ে সমকামী সম্পর্ককে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে রাশিদি। সংবাদ সংস্থা এএনআই’কে অল ইন্ডিয়া ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মৌলানা বলেছেন, এটা ভারতীয় সংস্কৃতি নয়। প্রকৃতপক্ষে এটা একটা পশ্চিমী দেশ থেকে ধার করা ধারণা। ইউরোপীয় এবং পশ্চিমী দেশে এই বিষয়গুলি খোলাখুলি ভাবে চলে। কিন্তু ভারতে এই কাজকর্মকে কখনোই উৎসাহ দেওয়া বা অনুমতি দেওয়া উচিত না। আমাদের দেশে সমস্ত বৈবাহিক অনুশীলনগুলির শিকড়, আমাদের মূল্যবোধ এবং সামাজিক ঐতিহ্য রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের উচিত এ বিষয়ে চূড়ান্ত রায় দেওয়ার আগে আমাদের মূল্যবোধ ও বিশ্বাসগুলিকে সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা। একইসঙ্গে তাঁর মতে ২০১৮ সালের সমকামী সম্পর্ককে যে অপরাধের তালিকা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল সেই সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। তাঁর দাবি সমকামিতাকে অপরাধী তালিকা থেকে সরানো উচিত হয়নি। কোনো ব্যক্তির পক্ষেই তার সম লিঙ্গের অন্য কাউকে বিয়ে করা অস্বাভাবিক। প্রকৃতি ছেলে এবং মেয়েদের আলাদাভাবে তৈরি করেছে। তাঁর দাবি, ভারতীয় সংস্কৃতিকে ক্ষুন্ন করতেই সমকামী বিবাহের অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। আমি সুপ্রিম কোর্টকে বলবো এই ধরনের কাজকর্মকে অপরাধ বলে ঘোষণা করার উচিত।
এদিকে সমকামী বিবাহকে আইনি বৈধতা না দিলেও সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণ করেছে সমকামী দম্পতি লিভ ইন সম্পর্কে থাকতেই পারেন। তাদের নিজেদের পছন্দমত সঙ্গি বেছে নেওয়ার অধিকার তাদের আছে। কিন্তু সন্তান দত্তক নেওয়ার প্রশ্নে দ্বিমত পোষণ করেছেন পাঁচ বিচারপতি। প্রধান বিচারপতি এবং বিচারপতি এসকে কল সমকামী দম্পতিদের দত্তক নেওয়ার অধিকারের পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। কিন্তু বিচারপতি রবীন্দ্র ভাট, বিচারপতি হিমা কোহলি, বিচারপতি নরসিমা এর বিরুদ্ধে মত দেন।

