আত্মত্যাগ! ৮৫ বছরের আর এস এস সদস্য নারায়ণ দাবাধকর নিজের জন্য বরাদ্দ হাসপাতালের বেড দিয়ে দিলেন কম বয়সী করোনা রোগীকে

আমাদের ভারত, ২৮ এপ্রিল:করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে নাকাল অবস্থা দেশবাসীর । হাসপাতালে হাসপাতালে বেডের আকাল। পাওয়া যাচ্ছে না অক্সিজেন, প্রয়োজনীয় ওষুধ। প্রিয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হিমসিম পরিস্থিতি মানুষের। বেড বা অক্সিজেন না পেয়ে অনেকেই চলে যাচ্ছে না ফেরার দেশে। তার মধ্যে মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে থেকে গেলেন নাগপুরের ৮৫ বছরের বৃদ্ধ নারায়ণ দাবাধকর। তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের সদস্য। নিজের বেড এক কম বয়সী করোনা রোগীর জন্য ছেড়ে দিয়ে মানবিকতার নজির গড়ে গেলেন দেশের এই কঠিন পরিস্থিতিতে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি মহারাষ্ট্রে। নাগপুরের বাসিন্দা ৮৫ বছরের বৃদ্ধ নারায়ণ দাবাধকর কয়েক দিন আগে করোনায় আক্রান্ত হন। তার শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কম হতে শুরু করে। তখন তার মেয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে উদ্যোগী হয়। সাধারণ মানুষের মতো অনেক কষ্ট করেই বাবার জন্য শহরের ইন্দিরা গান্ধী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে একটি বেড জোগাড় করে বাবাকে ভর্তি করতে নিয়ে যায় সে। হাসপাতালে ভর্তির সময় যখন রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে, তখন নারায়ণ দাবাধকর জানতে পারেন এক মহিলা তার বছর ৪০এর করোনা আক্রান্ত স্বামীর জন্য হন্যে হয়ে বেড খুঁজছেন কিন্তু পাননি। তখনই নারায়ণ দাবাধকর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান তার জন্য বরাদ্দ বেডটি যেনো ওই মহিলার স্বামীকে দিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “আমার ৮৫ বছরের উপর বয়স। আমি জীবনে অনেক কিছু দেখেছি। আমার জীবন আমি বেঁচেছি। কিন্তু ওই ভদ্রলোক চলে গেলে ওর সন্তানদের কি হবে, ওর পরিবারের কি হবে? ওঁর সন্তান অনাথ হয়ে যাবে। আমার বেড বরং ওকে দিয়ে দিন”।

বৃদ্ধ এই কথা বলতে হাসপাতাল তাকে দিয়ে লিখিয়ে নেয় যে তিনি স্বেচ্ছায় তার বেড ওই ব্যক্তিকে দিয়ে দিচ্ছেন। হাসপাতালের তরফে দেওয়া ফর্মে সই করে ভর্তি না হয়ে নিজের বেড এক কম বয়সীকে দান করে বাড়ি ফিরে আসেন এই অশীতিপর বৃদ্ধ। এরপর বাড়িতেই তার লড়াই চলে করোনার সাথে। তিনদিন পর বাড়িতেই মারা যান এই বৃদ্ধ।

আর এস এসের সদস্য ৮৫ বছরের বৃদ্ধ নারায়ণ দাবাধকরের এই আত্মত্যাগের ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল হয়েছে। অতিমারীর এই ভয়ঙ্কর সময়ে এই অশীতিপর বৃদ্ধের এহেন অবদান মানবিকতার ইতিহাসের বড় উদাহরণ হয়ে থেকে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *