দেড় বছর ধরে ভেন্ডার নেই! দুর্গাপুর আদালতে ১০ টাকার জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প পেপার সঙ্কট, দুর্ভোগে সাধারন মানুষ

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২২ জুলাই: লাইসেন্সপ্রাপ্ত ভেন্ডার আছে। নিয়মিত জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প পেপার তোলেন। অথচ গত দেড় বছর ধরে খোদ আদালতে স্ট্যাম্প পেপার বিক্রির লাইসেন্স প্রাপ্ত ভেন্ডার নেই। আর তার জেরে সঙ্কট দেখা দিয়েছে ১০ টাকার জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প পেপারের। চরম দুর্ভোগ ও হয়রানির শিকার সাধারন মানুষ। এই ঘটনা দুর্গাপুর আদালতের।

ঘটনায় জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে দুর্গাপুরে ১০ টাকার জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প পেপারের কালোবাজারির অভিযোগ উঠেছে। আর তার খোঁজ নিতে গিয়েই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। দুর্গাপুর ট্রেজারি সুত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুরে জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প পেপার বিক্রির লাইসেন্সপ্রাপ্ত ভেন্ডার রয়েছে ৭ জন। তার মধ্যে ৫ জন নিয়মিত স্ট্যাম্প পেপার তোলেন। যার মধ্যে তিনজন বসেন দুর্গাপুর রেজিস্ট্রি অফিসে। স্ট্যাম্প পেপার কিনতে সকাল থেকে লম্বা লাইন পড়ে সেখানে। অভিযোগ, অথচ খোদ আদালত চত্বরে গত ২০ মাস যাবৎ কোনও ভেন্ডার নেই। ফলে চরম দুর্ভোগে সাধারন মানুষ।

জানা গেছে, লাইন দিলেও বেশীরভাগ সময় ১০ টাকার স্ট্যাম্প পেপার মেলে না। সব থেকে বেশী সঙ্কট ১০ টাকার স্ট্যাম্প পেপার নিয়ে। মুলত, ওই অঙ্কের স্ট্যাম্প পেপার এফিডেভিট, ডিক্লিয়ারেশন, চুক্তিপত্রে কাজে লাগে। ১০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারের দৈনিক প্রায় আড়াই’শ র মতো চাহিদা থাকে। কিন্তু সেই অনুপাতে জোগান কম। আর তার ফলে কালোবাজারি হয় বলে অভিযোগ। এমনকি দ্বিগুন দামে বিক্রি হয় বলে অভিযোগ।

জানা গেছে, প্রত্যেকে মাসে একজন ভেন্ডার ৩৫ হাজার টাকা মুল্যের স্ট্যাম্প পেপার ট্রেজারি থেকে তুলতে পারেন। প্রশ্ন তারপরও সঙ্কট কেন? জানা গেছে, দুর্গাপুর আদালতে দুজন ভেন্ডার বসতেন। করোনা আবহে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্যজন বার্ধ্যকজনিত কারনে আসতে পারেন না। যার ফলে ভেন্ডার শূন্য আদালত।

দুর্গাপুর বার অ্যাসোশিয়েশনের সম্পাদক অনুপম মুখোপাধ্যায় অবশ্য জানান, “করোনা আবহের শুরু থেকে প্রায় ২০ মাস ধরে দুর্গাপুর আদালতে কোনও ভেন্ডার নেই। খুবই সঙ্কটজনক পরিস্থিতি। আমরা মহকুমা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছি এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় একজন ভেন্ডারকে রেজিস্ট্রি অফিস থেকে রুটিন করে আদালতে বসানোর আবেদন রেখেছি। তাতেও কোন সুরাহা হয়নি।” পশ্চিম বর্ধমান জেলাশাসক বিভু গোয়েল জানান, “রিপোর্ট পেয়েছি। খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *