আমাদের ভারত, হুগলি, ২১ সেপ্টেম্বর: প্রকাশ্য দিবালোকে দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল। মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে চন্দননগর থানার জিটি রোডের উপর লক্ষ্মীগঞ্জ বাজার এলাকায়। এদিন রীতিমত পুলিশের সাথে ডাকাত দলের গুলির লড়াইতে রিল ও রিয়েল প্রায় এক হয়ে গিয়েছিল চন্দননগর লক্ষ্মীগঞ্জ বাজার এলাকায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চন্দননগর জিটি রোডের পাশে লক্ষ্মীগঞ্জ বাজারে মুথুট ফিনকর্প গোল্ডলোন নামক একটি বেসরকারি ফিনান্স কোম্পানি রয়েছে। নীচতলায় ওষুধের দোকান, একটি রাষ্ট্রয়াত্ত্ব ব্যাঙ্কের এটিএম থাকলেও দ্বিতল ওই ভবনের দুইতলায় রয়েছে সেই ফিনান্স কোম্পানি। মঙ্গলবার দুপুর তিনটে নাগাদ বেশ কয়েক জনের একটি ডাকাত দল ফিনান্স কোম্পানিতে গ্রাহক সেজে ঢোকে। সেখানে ঢুকেই নিরাপত্তারক্ষীর মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে শুরু হয় লুঠপাট। ফিনান্স কোম্পানিতে থাকা কোনও কর্মী সাইরেন বাজিয়ে দিতেই নিরাপত্তা কর্মী ও অন্য এক কর্মীকে বেধড়ক মারধর করে ডাকাত দল।

খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে চলে আসে চন্দননগর থানার পুলিশ। একে একে উপস্থিত হয় চন্দননগর কমিশনারেটের আধিকারিক সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী। দু’জন পালাতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যায়। তিনজন দুষ্কৃতি তখন ফিনান্স কোম্পানির দ্বিতল থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। বেশকিছুক্ষণ দু’পক্ষের মধ্যে চলে গুলির লড়াই। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে ওই বিল্ডিংয়ের ছাদ দিয়ে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। যদিও ততক্ষণে পুলিশ বেশ কয়েকটা থানা এলাকা জুড়ে নাকা চেকিং শুরু করে দেয়। চুঁচুড়া থানা এলাকায় নাকা চেকিংয়ের সময় আরও একজন ধরা পড়ে বলে খবর মিলেছে। এই গোটা ঘটনার শুরু থেকেই লক্ষ্মীগঞ্জ বাজার এলাকার সাধারণ মানুষ ব্যাপক আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। যদিও পুলিশ ও ডাকাত দলের গুলির লড়াইতে কারও হতাহত হওয়ার কোনও খবর পাওয়া যায়নি। ডাকাতিতে ফিনান্স কোম্পানির কিছু খোওয়া গেছে কি না সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখছে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ কর্তারা।
যদিও এই গোটা ঘটিনাটি নিয়ে সন্ধে পর্যন্ত চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ কর্তারা সরকারি ভাবে সাংবাদিকদের কিছু জানাননি। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি চারচাকা গাড়ি ও একটি বাইক উদ্ধার করেছে।

