দুয়ারে ডেঙ্গু! লাটে উঠেছে সাফাই কাজ, বিপাকে পড়ুয়ারা, বুদবুদে নর্দমার জলে ভাসছে রাস্তা, ডেঙ্গু আতঙ্কে ঘুম ছুটেছে বাসিন্দাদের

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১৩ অক্টোবর: সারা রাজ্যজুড়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে কোটি টাকা ব্যায়ে চলছে ডেঙ্গু সচেতনতার প্রচার। অন্যদিকে তখন ডেঙ্গু মশার আঁতুড়ঘর তৈরী হয়েছে জনবসতি রাস্তা। পাশেই খুদেদের স্কুল। নোংরা জল পেরিয়ে বাধ্য হয়ে স্কুলে যেতে হয় পড়ুয়াদের। এমনই নজির বীহিন ছবি ধরা পড়ল বুদবুদের মসজিদতলা এলাকায়। ডেঙ্গু নিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতায় যখন জোর তৎপরতা, তখন পরিবেশ স্বচ্ছতা রাখতে প্রশাসনের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

বুদবুদের মসজিদতলা এলাকা। পাড়ায় রয়েছে প্রাইমারি স্কুল, আইসিডিএস সেন্টার। বছর কয়েক আগে এনআরইজিএস প্রকল্পে কংক্রিট করা হয়েছে এলাকার রাস্তা। পাকা হয়েছে নিকাশী। কিন্তু, সংস্কার না হওয়ায় মজে গেছে নিকাশী। তার ওপর রাস্তার পাশে রয়েছে বদ্ধ জলাশয়। প্লাস্টিক আবর্জনায় সেটিও মজে গেছে। আগাছার জঙ্গলে ভর্তি। সংস্কার না হওয়ায় আস্তাকুঁড়ে পরিণত হয়েছে। তার জেরে গোটা এলাকা দূষিত। তারওপর মজে যাওয়া নর্দমার জল উপচে পড়ছে রাস্তার ওপর। নোংরা কালো জলে ডেঙ্গু লার্ভা জাল বিছিয়ে রয়েছে। রাস্তার ওপর জল দেখলেই বোঝা যায় দূষিত জলে মশা-মাছির আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত দু’মাস ধরে রাস্তাটা আস্ত নর্দমার জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। ওই নোংরা দূষিত জল পেরিয়ে বাচ্চাদের স্কুলে যেতে হয়। সাধারণ মানুষকে যাতায়াত করতে হয়। পাশেই পানীয় জলের নলকূপ। সেটার জলও দূষিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গোদের ওপর বিষ ফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে ডেঙ্গু আতঙ্ক। বহুবার পঞ্চায়েত প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। নিকাশি সংস্কার না হওয়ায় মজে গেছে। বৃষ্টি হলেই ওই নোংরা জল উপচে বাড়িতে ঢোকে। গোটা এলাকায় অস্বাস্থ্যকর তৈরী হয়েছে।” উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে ওই এলাকায় একজনের শরীরে ডেঙ্গুর হদিশ পাওয়া যায়। তারপর থেকে আতঙ্কিত এলাকাবাসীরা। আর প্রশ্ন এখানেই। কোটি টাকা ব্যায়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে ডেঙ্গু সচেতনতার প্রচার চলছে। রাজ্য কেন্দ্র নির্মল বাংলা কেউ স্বচ্ছ ভারত তৈরীতে তৎপর। তখন গ্রামেগঞ্জে, পাড়ায় পাড়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ কেন? বাসিন্দাদের দাবি, আড়ম্বরপূর্ণ প্রচারের বদলে ওই টাকায় নিকাশী সংস্কার সহ পরিবেশকে স্বাস্থ্যকর তৈরীর কাজে ব্যায় করা হোক। একই অবস্থা গোটা বুদবুদ বাজারে। বৃষ্টি হলেই নিকাশীর নোংরা জল রাস্তায় জমা হয়। এমনকি বাজারে বেশ কিছু দোকান এখনও নোংরা জলে আবদ্ধ। তার ওপর বাজারের আবর্জনার জঞ্জাল ভর্তি ডাস্টবিন রাস্তায় গড়াগড়ি খাচ্ছে।

উল্লেখ্য, দুদিন আগে কাঁকসার বনকাটি পঞ্চায়েতের বিলপাড়া এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত এক পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর শুক্রবার স্বাস্থ্য দফতর থেকে পরিবারের ১৫ জনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য।

ডেঙ্গু প্রকোপের মাঝে পরিবেশকে স্বাস্থ্যকর তৈরীতে প্রশাসনের ব্যার্থতাটা বারবারই ফুটে উঠেছে৷ প্রশাসনের ভুমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ পরিবেশ প্রেমী থেকে সাধারন মানুষ। যদিও বুদবুদ পঞ্চায়েতের প্রধান শুভ্রা ভট্টাচার্য সাফাই দিয়েছেন, ‘পুজোর আগেই সব পরিস্কার করা হয়েছে।’ অন্যদিকে গলসী-১ নং বিডিও দেবলিনা দাস জানান,
“দ্রুত ওইসব নিকাশী সাফাই করার জন্য 
স্থানীয় পঞ্চায়েতকে বলা হয়েছে।”

  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *