বিহারে মহাজোটের শরিক বাম–কংগ্রেসকে দর্শকাশনে পাঠিয়ে মমতা দিদিকেই সমর্থন তেজস্বী যাদবের

আমাদের ভারত, ১ মার্চ: বিহারে বাম-কংগ্রেসের সঙ্গে মহাজোট তৈরি করে নির্বাচনের ময়দানে নেমেছিল আরজেডি। আর তাতে বিজেপিকে বড় চ্যালেঞ্জও দিয়েছিল তেজস্বী। কিন্তু বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে বাম ও কংগ্রেসকে এক রকম দর্শকাসনে পাঠিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরলেন লালুপুত্র তেজস্বী যাদব। নবান্নে এসে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে লালুপুত্র তেজস্বী যাদব বললেন, “পূর্ণ শক্তি দিয়ে মমতা দিদিকে সমর্থন করবো। বাংলায় বিজেপিকে আটকাতে মমতা দিদির হাত শক্ত করব আমরা।”

বিহারে বাম কংগ্রেসের সঙ্গে মহাজোট তৈরি করে লড়ার পরে কলকাতায় এসেও সেই জোট শরিকদের ডাকে ব্রিগেডে যাননি তেজস্বী যাদব। বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের জল্পনা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তেজস্বী–মমতার ৪০ মিনিট বৈঠক হয়। এরপর মমতাকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন তেজস্বী। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, “গণতন্ত্র বিপন্ন, বাংলায় বিজেপিকে রুখতে হবে। লালুজিও মমতা দিদিকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে হিন্দিভাষী ও বিহারের সমস্ত মানুষকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। মমতা দিদির হাত শক্ত করতেই হবে।” করোনা মোকাবিলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূয়শী প্রশংসা করে তিনি বলেন, “করোনায় মমতা দিদির ভূমিকা প্রশ্নাতিত। বাংলা ভাষা সংস্কৃতি ও মূল্যবোধকে ক্ষুন্ন করছে বিজেপি।” লকডাউন এর সময় বিহারের পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকার নিন্দা করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা নিজেদের সব কাজ ছেড়ে কেন বাংলা বিহারে চলে আসছেন বারবার?

জোট প্রসঙ্গে তেজস্বী যাদবের বক্তব্য, বাংলা এবং বিহারের সমীকরণ আলাদা। তিনি কেরালায় বাম কংগ্রেসের প্রতিদ্বন্দিতার কথাও তুলে ধরেন এক্ষেত্রে। ব্রিগেড সমাবেশে উপস্থিত থাকার জন্য তেজস্বী যাদবকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল বাম কংগ্রেস নেতৃত্ব। কিন্তু সেই আমন্ত্রণ কার্যত প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। সূত্রের খবর জামুরিয়াতে জেতা আসন সিপিআইএম আরজ ডিকে ছাড়তে সম্মত হয়েছিল। পছন্দমত আরো ৪ হিন্দিভাষী অঞ্চলের আসনে ছাড়তে রাজি ছিল আলিমুদ্দিন। কিন্তু তাদের আশায় জল ঢেলে দিলেন তেজস্বী।

এরাজ্যের বিরোধী জোট আশা করেছিল বিহারে যেহেতু আরজেডির শরিক দল কংগ্রেস সিপিএম ছিল, ফলে রবিবার ব্রিগেডে আর জেডি নেতা তেজস্বী যাদব উপস্থিত থাকবেন। রবিবার সকালের ফ্লাইটে তেজস্বী কলকাতায় পৌঁছেও গিয়েছিলেন। কিন্তু বিমানবন্দর থেকে তিনি সোজা গিয়ে ওঠেন শহরে এক অভিজাত হোটেলে। বেলা গড়িয়ে গেলেও ব্রিগেড দূরে থাক হোটেল থেকেও তিনি নাকি বেরোননি। অবশেষে সোমবার বিকেলে তাকে নবান্নতে দেখা গেল। আর বাম কংগ্রেস দর্শক হয়ে থেকে গেল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে দুই পাখি এক ঢিলে মারতে চেয়েছে তৃণমূল। কৌশলগত কারণেই তেজস্বী যাদবকে নবান্নে হাজির করিয়েছে তৃণমূল। যেমন একদিকে উদ্দেশ্য বাংলায় বসবাসকারী বিহারীদের পাশে পাওয়া অন্যদিকে তামাম ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই রয়েছে সেটাও বোঝানো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *