স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ৫ সেপ্টেম্বর: করোনা আবহে স্কুল বন্ধ। শিক্ষক দিবসে স্কুলে কোনও অনুষ্ঠান হবে না। গত পাঁচ মাস ধরে স্কুল বন্ধ রয়েছে। অনলাইনে হচ্ছে সমস্ত স্কুলের পড়াশোনা। শিক্ষকরাও বাড়িতে আসছে না তাকে পড়াশোনা করাতে। সহপাঠীদের সাথেও করোনা তৈরি করেছে দূরত্ব। কবে যে স্কুল খুলবে কে জানে। কত জমানো কথা আছে তার বন্ধুদের সাথে। তার মা বাবাও তাকে কখনো চোখের আড়ালে থাকতে দিচ্ছে না। এমনকি তার পাশের বাড়ির সব সময় খেলার সাথী টুকাইয়ের বাড়িতেও তাকে যেতে দিচ্ছে না। এখন খেলনা বাটি সে কিভাবে খেলবে। অভিযোগের সুরে বাবা মাকে অনেকবার বলেছে টুকাইয়ের বাড়ি নিয়ে যেতে। কিন্তু বাবা-মা তাকে বলে করোনা নামে দুষ্টু রাক্ষস তাকে নিয়ে চলে যাবে। ছোট্ট রিমলি তাই শুনে মার কোলে মুখ লুকায় আর ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকে।

জানেন তো টুকায়ের মা রিমলিকে খুব ভালোবাসে। গেলেই অনেক খেলনা দেয়। কত আদর করে। কত রকমের চকলেট দেয়। রিমলির তাই খুব মন খারাপ। তার পছন্দের মিসকেও সে মিস করছে। কে জানে কবে আবার সব স্বাভাবিক হবে। তার মার শেখানো দুষ্টু রাক্ষসটাকে কবে পুলিশ কাকুরা ধরে নিয়ে যাবে। আগের মতন আবার বন্ধুদের সাথে মার হাত ধরে রিমলি স্কুলে যাবে। তাই ৫ বছরের রিমলি পাহাড়ি বন্ধ ঘরে নৃত্যের মাধ্যমে শিক্ষক দিবসে শ্রদ্ধা নিবেদন করছে। তার মা সোমালি পাহাড়ি রিমলিকে বলেন, কেউ না আসুক করোনা রাক্ষসকে মারতে আজকের দিনে তার মিস হয়তো এবার তার কাছে ছুটে আসবেই। তার সাথে গল্প করবে। কত কত আদর করবে। কত চকলেট দেবে।

কি বলেন আপনাদেরও কি তাই মত? রিমলি কিন্তু জানে তার মিস করোনা রাক্ষসকে তাড়িয়ে দেবে। এলেই পানিশমেন্ট দেবে। তার কাছে ঘেঁষতে ও দেবে না। হয়তো কান ধরে উঠবসও করাবে। তাই তার মিসের প্রতি প্রচুর ভরসা। আসুন না রিমলির মত আমরাও একবার পৃথিবীটাকে ওর মতন করে ভাবি।

