স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ৩ ফেব্রুয়ারি: পুরসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর চারিদিকে শাসকদল তৃণমূলের জয়জয়কার। নদিয়া জেলাতেও বেশীরভাগ পুরসভা গেল তৃণমূলের দখলে। শুধুমাত্র তাহেরপুর পৌরসভা বামেদের দখলে থাকলেও বাকিগুলি গেল শাসক দলের অধীনে। এতে জেলার তৃণমূল নেতা কর্মীরা খুশি, কিন্তু তাদের দাবি, তাহেরপুরে আমারা জয়লাভ করলে আরও বেশি খুশি হতাম।
নদিয়া জেলাতে ১০টি পুরসভার নির্বাচন হয়েছে তার মধ্যে ১টি বাদে বাকিগুলি তৃণমূলের দখলে গিয়েছে। এরমধ্যে বিরোধীশূন্য করে নবদ্বীপ পৌরসভা দখল করলো তৃণমূল কংগ্রেস। ২৪টি ওয়ার্ডের বিরোধী শিবিরে বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিআইএম সহ সকল প্রার্থীদের পরাজিত করে প্রতিটি ওয়ার্ডে রেকর্ড মার্জিনে জয়ী হয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
জেলার ১০টির মধ্যে বীরনগর, চাকদহ, গয়েশপুর, হরিণঘাটা, কল্যাণী, কৃষ্ণনগর, নবদ্বীপ, রানাঘাট, শান্তিপুর পৌরসভা, তাহেরপুর নোটিফায়েড এরিয়াতে আজ গণনা হয়েছে। এই সকল পৌর এলাকাতে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৪২৬০৭৩ জন। মোট ওয়ার্ড সংখ্যা ছিল ১৯৭টি। বুথ সংখ্যা ছিল ৮৮৪টি। বীরনগর পৌরসভায় ১৪টি ওয়ার্ড, তার মধ্যে ১১টিতে তৃণমূল, দুটি নির্দল ও ১টি বিজেপির দখলে গিয়েছে।
চাকদহ পৌরসভাতে ২১টি ওয়ার্ডের মধ্যে বিরোধী শূন্য। সবকয়টি শাসকদলের দখলে। গয়েশপুর পৌরসভা ১৮টিতেই তৃণমূল বিরোধী শূন্য। হরিণঘাটার ১৭টিতে তৃণমূল, বাকি শূন্য। কল্যাণী পুরসভাও তৃণমূলের দখলে। কৃষ্ণনগর পৌরসভাতে ২৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৬টি তৃণমূলের বাকি ৪টে নির্দল ৪টে কংগ্রেস ১টি বিজেপির দখলে। নবদ্বীপ পৌরসভায় ২৪টিই শাশক দলের দখলে। রানাঘাট পৌরসভার ২০টির মধ্যে ১৯টি তৃণমূল, ১টি বিজেপি। শান্তিপুর পৌরসভাতে ২৪টির মধ্যে ২২টি তৃণমূল, ২টিতে বিজেপি জয়লাভ করেছে। আর তাহেরপুর পৌরসভাতে ১৩টির মধ্যে ৮টিতে বামফ্রন্ট, ৫টিতে তৃণমূল জয়ী হয়েছে।
প্রসঙ্গত, শেষবার কৃষ্ণনগর ও চাকদহ পৌরসভা নির্বাচন হয়েছিল ২০১৩ সালে। বীরনগর, গয়েশপুর, হরিণঘাটা, কল্যাণী, নবদ্বীপ, রানাঘাট, শান্তিপুর ও তাহেরপুর পৌরসভাগুলিতে শেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৫ সালে। ২০১৩ সালে কৃষ্ণনগর পৌরসভাতে ২৪টি ওয়ার্ড ছিল, সেই বছর ২২টি ওয়ার্ডে তৃণমূল জয়লাভ করে ২টি নির্দলের দখলে যায়। এইবার একটি ওয়ার্ড বাদে শাসকদলের দখলে যায় ১৬টি। অর্থার সেই বারের নিরিখে শাসক দলের ভোট কমেছে।
২০১৫ সালের বীরনগর পৌরসভা নির্বাচনের ১৪ টি ওয়ার্ডের মধ্যে তৃণমূল জয়লাভ করেছিল ১১ টি ওয়ার্ডে, সিপিএম একটি ও নির্দল প্রার্থী জিতেছিল দুটি ওয়ার্ডে। ২০১৫ সালের গয়েশপুর পৌরসভা নির্বাচনের ১৮ টি ওয়ার্ডের মধ্যে সবকটি ওয়ার্ডেই তৃণমূল জয়লাভ করেছিল। ২০১৫ সালের কল্যাণী পৌরসভা নির্বাচনের মোট ২১ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২১ টি ওয়ার্ডই তৃণমূল জয়লাভ করেছিল। ২০১৫ সালের নবদ্বীপ পৌরসভা নির্বাচনের ২৪ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৩ টি ওয়ার্ড তৃণমূল ও একটি ওয়ার্ড সিপিএম জয়লাভ করেছিল।
২০১৫ সালের হরিণঘাটা পৌরসভা নির্বাচনের ১৭ টি ওয়ার্ডের মধ্যে সবকটি ওয়ার্ড তৃণমূল জয়লাভ করেছিল। ২০১৫ সালের রানাঘাট পৌরসভা নির্বাচনের ২০ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৬ টি তৃণমূল, সিপিএম দুটি ও কংগ্রেস দুটি ওয়ার্ড জয়লাভ করেছিল। ২০১৫ সালেরই শান্তিপুর পৌরসভা নির্বাচনের ২৪ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২১ টি তৃণমূল সিপিএমের দুটো নির্দল একটি ওয়ার্ড জয়লাভ করেছিল।
সবমিলিয়ে এই বারের জেলার ফলাফলে শাসক দলের দখলে বেশীরভাগ পৌরসভা থাকলেও, বিরোধীদের ভোট আগের থেকে অনেকটাই বেড়েছে। এমনি ধারণা রাজনৈতিক মহলের।
ভোটে জিতে কৃষ্ণনগর পৌরসভার ২২নং ওয়ার্ডের প্রার্থী হয়েছেন জেলার প্রয়াত বরিষ্ঠ নেতা গৌরি শংকর দত্তের ছেলে অয়ন দত্ত। তিনি বলেন, “প্রথমে আমি দাঁড়াতে চাইনি। আমার এলাকার মানুষ আমাকে দাঁড়াতে সাহস জুগিয়েছেন। এলাকার মানুষ আমার পাশে দাঁড়িয়েছে, তাই আমি জয়লাভ করেছি। বাবাকে খুবই মিস করছি। তিনি থাকলে এই জয়ের আনন্দ ভাগ করে নিতেন”।
অন্যদিকে বিজেপির তরফে অভিযোগ, “এইবার গোটা বাংলাতে শাসকদল যে ভাবে ছাপ্পা ভোট দিয়েছে। তাই এই ফলাফল হয়েছে। যদি মানুষ শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট দিতে পারতো তাহলে ফলাফল অন্যরকম হতো।”

