নূপুর শর্মাকে সমর্থন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের বিরোধিতা করে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সেনা আধিকারিক আমলাদের খোলা চিঠি

আমাদের ভারত, ৫ জুলাই: নবিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে নূপুর শর্মার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সমস্ত অভিযোগ দিল্লিতে স্থানান্তর করার আবেদনের মামলার শুনানিতে নূপুর শর্মাকে সুপ্রিমকোর্ট ভর্ৎসনা করে। সুপ্রিমকোর্টের অবসরকালীন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানায় সারাদেশে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার আগুন ছড়ানোর জন্য দায়ী নূপুর শর্মা। কিন্তু দেশের শীর্ষ আদালতের এই পর্যবেক্ষণের তীব্র বিরোধিতা করে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, সেনাবাহিনীর আধিকারিক, আমলা সহ ১১৭ জনের স্বাক্ষর করা একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করা হয়েছে।

এই খোলা চিঠিতে তারা অভিযোগ করেছেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা তাদের সীমারেখা অতিক্রম করে গিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে বিরোধিতা করে খোলা চিঠিতে ১৫ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, ২৫ জন সশস্ত্র সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিক, বেশ কিছু আমলা সহ ১১৭ জন স্বাক্ষর করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্যকান্ত ও পারদিওয়ালার পর্যবেক্ষণকে খোলা চিঠিতে দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। খোলা চিঠিতে জানানো হয়েছে নূপুর শর্মাকে কোনো বিচার ছাড়াই দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে দেশে যা ঘটেছে তার জন্য একক ভাবে নূপুর শর্মাকে দায়ী বলে পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে। এই মন্তব্যের মাধ্যমে উদয়পুরের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকেও লঘু করা হয়েছে বলে খোলা চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে।

ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, এই পর্যবেক্ষণে শুধুমাত্র একটি এজেন্ডাকে সামনে রেখেই মন্তব্য করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের জেরে ভারতের নিরপেক্ষ গণতন্ত্র প্রশ্নের মুখে। খোলা চিঠিতে জানানো হয়েছে নূপুর সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দায়ের করা অভিযোগের একত্রিকরণে আবেদন করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টে। ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী একই অপরাধে একাধিক বিচার বা শাস্তি দেওয়া যায় না। তাই নূপুর শর্মা আইনের পথে চলেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।

খোলা চিঠিতে বিশিষ্টজনেরা জানিয়েছেন, সুপ্রিমকোর্টের পর্যবেক্ষণ কখনোই সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য নয়, বরং এই ধরনের মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের সম্মানকে প্রভাবিত করবে।

সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির অবসরকালীন বেঞ্চে নূপুর শর্মার আবেদনের ভিত্তিতে দেওয়া পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে সারাদেশে যে আগুন জ্বলছে তার জন্য একমাত্র নূপুর শর্মা দায়ী। তার বেফাঁস মন্তব্যের জন্য দেশে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। নিজের মন্তব্যের জন্য দেশবাসীর কাছে তার ক্ষমা চাওয়া উচিত। সুপ্রিম কোর্টের অবসরকালীন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, তিনি কোনো ধর্মীয় নেতা নন তার এই ধরনের মন্তব্যের কারণ কি
শুধুমাত্র সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য? রাজনীতির জন্য তিনি এই ধরনের মন্তব্য করেছেন। তার বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে সারাদেশে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা দেখা দেয়। একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ হয়। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট হয়। প্রাণহানির মতো ঘটনা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য ভারতের সমালোচনা করে। নূপুর শর্মার বিতর্কিত মন্তব্যকে সমর্থন করার জন্য উদয়পুরের দর্জি কানাইয়া লাল কি নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *