Gas shortage, Jhargram, ঝাড়গ্রামে গ্যাসের অভাবে বন্ধ হলো রেঁস্তোরা, গ্যাসের দোকানে লম্বা লাইন গ্রাহকদের

পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, ঝাড়গ্রাম, ১২ মার্চ: গ্যাসের সঙ্কটে তালা ঝুলল রেস্তোরাঁয়। অন্যদিকে, গৃহস্থের রান্নাঘর সচল রাখতে সকাল থেকেই গ্যাস এজেন্সির অফিস গুলির বাইরে খালি গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে লম্বা লাইন দেখা যায় গ্রাহকদের। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এমনই চিত্র দেখা গেল ঝাড়গ্রাম শহরে।

এদিন ঝাড়গ্রাম শহরের রঘুনাথপুর এলাকায় মেন রোডের উপর একটি রেস্তোরাঁর বাইরে গ্যাসের কারণে রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকবে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, বাণিজ্যিক গ্যাসের উপরে ভরসা করেই রেস্তোরাঁটির তিন বেলার রান্না চলে। সকালে ব্রেকফাস্টের খাবার পাওয়ার পাশাপাশি দুপুরের মধ্যাহ্নভোজন এবং সন্ধ্যায় ইন্ডিয়ান, চাইনিজ খাবার পাওয়া যায় ওই রেস্তোরাঁয়। রেস্তোরাঁর এক কর্মী উজ্জ্বল পাল বলেন, “আমাদের রেস্তোরাঁয় প্রতিদিন ১৯ কিলো ওজনের এক থেকে দেড়টি গ্যাস খরচ হয়। গতকাল থেকে গ্যাসের এজেন্টকে ফোন করা হলেও ফোন ধরছে না। ফলে গ্যাসের অভাবে আজ দুপুর থেকেই রেস্তোরাঁ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন মালিক। গ্যাস পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া গেলে পুনরায় রেঁস্তোরা চালু করা হবে।”

এদিন দুপুরে রেঁস্তোরার মেনু কমিয়ে সাদা ভাত, ডাল এবং কয়েকটি সবজি রান্না করা হয়েছে। দূর থেকে আসা রেস্তোরাঁর নিত্যদিনের খোদ্দেরদের জন্য। রেঁস্তোরাটিতে রাধুনী, সাফাই কর্মী সহ ১৩ জন কর্মী রয়েছে। রেঁস্তোরা বন্ধ হলে চরম সমস্যার মুখে পড়বেন তারা।

রেঁস্তোরার রাঁধুনী প্রদীপ কর বলেন, “দৈনিক মজুরিতে আমরা এখানে কাজ করছি। গ্যাসের অভাবে রেঁস্তোরা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এবার আমরা পরিবার চালাবো কিভাবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি।”

অন্যদিকে, ঝাড়গ্রাম শহরের গ্যাস এজেন্সির অফিস গুলিতে সকাল থেকেই লম্বা লাইন লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই সাইকেলে ও মোটর বাইকের পেছনে খালি গ্যাসের সিলিন্ডার নিয়ে হাজির হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, অনলাইনে গ্যাস বুকিং করা যাচ্ছে না। অফিসে ফোন করা হলেও কেউ ফোন তুলছে না। তাই বাধ্য হয়ে গ্যাস নেওয়ার জন্য সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছেন তাঁরা। সকাল আটটা থেকে গ্যাসের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এক গৃহবধূ শ্যামলী দাস বলেন, “বাড়ির গ্যাস শেষের মুখে। গ্যাস বুকিংয়ের জন্য বার বার ফোন করছি, কেউ ফোন তুলছে না। তাই বাধ্য হয়ে সকাল থেকে গ্যাস নেওয়ার লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। গ্যাস না পেলে জঙ্গল থেকে কাঠ পাতা এনে রান্না করতে হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *