বাঙালি হিন্দু নির্যাতন নিয়ে তথাগত রায়ের মন্তব্যে সাড়া সামাজিক মাধ্যমে

অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ৩১ মার্চ: বাঙালি মুসলমানের কাছে বাঙালি হিন্দু নির্যাতন নিয়ে প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়ের মন্তব্য সাড়া জাগিয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। শুরু হয়েছে বিতর্ক।

বৃহস্পতিবার তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, “বাঙালি হিন্দু সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছে বাঙালি মুসলমানের কাছ থেকে। ৪৬-এ গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংস এবং নোয়াখালীর হিন্দুনির্যাতন, ৫০-এ ৬৪-তে ৭১-এ পূর্ব পাকিস্তান জুড়ে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় গণহত্যা— কত ফিরিস্তি দেব?

তার মানে কি আমরা বদলা নেব? না। কিন্তু ইতিহাস ভুলব না।“ পোষ্ট করার এক ঘন্টা বাদে, বেলা সওয়া ১২টায় লাইক, মন্তব্য ও শেয়ারের সংখ্যা দাঁড়ায় যথাক্রমে ৮৯৪, ১৫৫ ও ৬২।

প্রতিক্রিয়ায় প্রাক্তন উপাচার্য অচিন্ত্য বিশ্বাস লিখেছেন, “আমি একমত নই। বদলা নেব, পরিকল্পনা করে। সমস্ত দিক থেকে চেপে ধরে। শুরু হোক হাসপাতাল থেকে।“ গ্রেটার নয়ডার বাসিন্দা সুনীতি চৌধুরী লিখেছেন, “আমিও একমত স্যার, হাতে না মেরে ভাতে মারতে তো পারা যায়। তবে এই প্রজন্মের বাঙালীর দ্বারা হবে না। তার জন্য মেরুদণ্ড চাই।“

নীলাঞ্জন রায় লিখেছেন, “কিন্তু বদলা নেব না কেন? আমরা কি নপূংশক?“ শুভাশিস চক্রবর্তী লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গের বামপন্থীদের অনেকেই পূর্ববঙ্গ থেকে ভিটে ছেড়ে এসেছিলো। কারণটা কি তারা বলুক?যেসব হিন্দু বাঙালী এই পোস্টের বিরোধিতা করছেন তারা আদৌ হিন্দু বাঙালী? ডিএনএ টেষ্টের জরুরী দরকার!“

যুগলকৃষ্ণ পাল লিখেছেন, “বদলার ধরণ নিয়ে দ্বিমত থাকতে পারে। যেমন, বাংলাদেশ/পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে পারষ্পরিক সংখ্যালঘু বিনিময় করা আসলে এক ধরনের শান্তিপূর্ণ বদলা নেওয়া। কিন্ত, যে জাতি আদৌ বদলা নিতে চায় না বা পারে না তার অস্তিত্ব বিলোপ এক প্রকার নিশ্চিত।“

জগৎ দাঁ লিখেছেন, “বদলা তো নেবই বদলা নিতেই হবে হিন্দুদের যুদ্ধ ওরা করবে না ওরা কৌশলে আস্তে আস্তে নিজেদের সংখ্যাটাকে বাড়াচ্ছে। যুদ্ধ আমাদের শুরু করতে হবে।“ সুপ্রভাত মৈত্র লিখেছেন, “বদলা নিতে হবে তা নইলে বাঙালি হিন্দুদের অস্তিত্ব থাকবে না এখন সময় হয়েছে প্রত্যাঘাত করার।

নীলাদ্রি কর লিখেছেন, “বদলা নিতে গেলে মনের জোর ও মেরুদন্ড লাগে। দুর্ভাগ্যবশত বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের এগুলো নেই।“

সায়ন্তন চক্রবর্তী লিখেছেন, “বাংলা ভাষার জন্য প্রাণ দেওয়া লোক জলকে বলে পানি, বন্ধুকে বলে দোস্ত, জলযোগকে বলে নাস্তা, স্নানকে বলে গোসল, হাত মুখ ধোয়াকে বলে উজু। আল্লাহ গজব তোমার কেরামতি।“ সায়ন্তনবাবুকে কাজী নাসির লিখেছেন, “বাঙালি বলতে ঢাকাকেই বোঝায়, সুতরাং আপনি বিজ্ঞলোক, খামাখা কেন ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করেন! ধর্ম যার যার, আমরা সবাই বাঙালি।“

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *