আমাদের ভারত, ৪ মে: সম্প্রতি ঘটে যাওয়া রেল দুর্ঘটনার জন্য রেলমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ কেশিয়াড়িতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুকান্ত মজুমদার এর পাল্টা দিয়ে বলেন, মূল বিষয় থেকে মানুষের চোখ ঘোরাতে ভারতের রাজনীতিতে এটাই আগে প্রথা ছিল। কিন্তু পদত্যাগ কখনোই সমাধান নয়।
সুকান্ত মজুমদার বলেন, “পদত্যাগ কোনো সমাধান হতে পারে না। ভারতবর্ষের রাজনীতির এক সময় এটা একটা প্রথা ছিল। রেলের কোনো দুর্ঘটনা ঘটে গেলেই রেলমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বলা হত বা পদত্যাগ করতেন। এর ফলে মানুষের চোখ কিছু দিন মূল দুর্ঘটনা থেকে সরে যেত। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এর ফলে আধুনিক প্রযুক্তি আনা বা রেলের উন্নতি সম্ভব হয় না। পদত্যাগের ফলে সাময়িকভাবে মানুষকে শান্ত করা যেতে পারে কিন্তু আমার মনে হয় না এটা দিয়ে কোনো উপকার হবে।”
রেলের এই দুর্ঘটনার পেছনে সন্দেহজনক কিছু আছে বলেই মনে করছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তিনি জানান, গতকাল রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়েই কথা বলেছেন, সেখানে তাদের মনে হয়েছে কিছু সন্দেহজনক আছে। তিনি বলেন, “তদন্তের পর সমস্ত কিছু জানা যাবে। কিন্তু বারবার মনে হয়েছিল যত বড় এই ঘটনা ঘটেছিল তাতে কিছু সন্দেহজনক ব্যাপার আছে। কেউ কিছু করেছে তারপরেই এই ঘটনা ঘটেছে। অটোমেটিক এই ধরনের ঘটনা ঘটেনি।”
একই সঙ্গে তিনি এই দুর্ঘটনায় রাজ্যের যে ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, “আমাদের জেলা স্তরে ও রাজ্য স্তরের যে নেতৃত্ব আছে তারা গিয়ে মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন, সবরকম ভাবে তার পাশে থাকার চেষ্টা করবে।
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছে, রেল জুড়ে সমন্বয়ের অভাবেই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই জবাবে সুকান্ত মজুমদার বলেন,
মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী যখন রেলমন্ত্রী ছিলেন তখন রেলের অবস্থা কি ছিল সেটা আমরা সবাই জানি। সব জায়গায় শিলান্যাস ছাড়া আর কিছু হতো না। আমি দেখেছি আমার এলাকায় দেওয়াল তৈরি করে শিলান্যাস হয়েছে। একটাও প্রকল্প শেষ হয়নি, আমাদের এসে শেষ করতে হচ্ছে। কটাক্ষ করে তিনি বলেন, মু্খ্যমন্ত্রীর কথা দেশের মানুষ সিরিয়াসলি নেয় না।
রেল দুর্ঘটনার জন্যে দায়ী রেল কর্তৃপক্ষ। রেলমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের পাল্টায় বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি বলেন, এখানকার মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। রোজ পদত্যাগ চাওয়া হয়। একটা সুযোগ পেয়েছে বলার। দুর্ঘটনা তো দুর্ঘটানা, কেউ তো ইচ্ছা করে করে না। একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে সরকারের যা করার সেটা সরকার করছে। সরকার এই দুর্ঘটনার কারণ খুঁজছে। যাতে আগামী দিনে এরকম ঘটনা না ঘটে। অনেকেই এসময় রুটি সেঁকতে চান।”

