আমাদের ভারত, জলপাইগুড়ি, ৭ সেপ্টেম্বর: করোনা পরিস্থিতি কাটিয়ে এবছর করম পুজোয় মাতলেন জলপাইগুড়ির বিভিন্ন চা বাগানের বাসিন্দারা। ডেঙ্গুয়াঝাড়, রায়পুর, জয়পুর, করলাভ্যালি, শিকারপুর, ডান্ডিগুড়ি, নাগপুর, ভাণ্ডাপুর চা বাগানে মঙ্গলবার করম পুজোয় সামিল হলেন সকলে। বুধবার সব বাগানের ভাসান হল রংধামালির মহারাজ ঘাটে। এই ভাসানকে কেন্দ্র করে মেলা হল।

পুজো কমিটি’র একটি নির্দিষ্ট করা স্থানে দু’টি করম ডাল এনে পুঁতে রাখা হয়, যা সন্ধ্যার পরে করম ঠাকুর বা করম গোঁলায় এবং ধরম ঠাকুর হিসেবে পূজিত হন। কুমারী মেয়েরা সারাদিন উপোস করে সন্ধ্যার পরে থালায় ফুল, ফল সহকারে নৈবেদ্য সাজিয়ে এই স্থানে গিয়ে পূজা করেন। এরপর সারারাত ধরে পুজোকে কেন্দ্র করে সব বাগানের পাশাপাশি ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগানে নাচ গান চলল।

খুব নিয়ম নিষ্ঠার সঙ্গে পুজোর আয়োজন করা হয়। পুজোকে কেন্দ্র করে প্রত্যেক বাগান উৎসবের আনন্দে মেতে উঠছিল। আজ ভাসান হল। এই ভাসানকে কেন্দ্র করে ভাসান মেলার আয়োজন করা হল। আদিবাসী নৃত্য ও গানের মধ্য দিয়ে পুজো চলল। ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগানের করম পুজো কমিটির সভাপতি আনসার আলি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী ছুটি ঘোষণা করেছেন করম পুজোতে। এই কারণে আজকে করম পুজোয় জাতিভেদ নির্বিশেষে সকলে সামিল হয়েছেন।”

আট চা বাগানের আদিবাসী সমাজের সভাপতি প্রধান হেমব্রোম বলেন, “এবছর সব বাগানের ভাসান এক জায়গায় করা হয়। ভাসানে আদিবাসী নাচ ও বয়স্কদের সংর্বধনা দেওয়া হয়। প্রসাদ বিতরণ করা হয়।”


