সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা,
৮ সেপ্টেম্বর: নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলছে এলাকাবাসীদের যাতায়াত। জীবন হাতে নিয়েই করতে হচ্ছে নদী পারাপার। যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। নজর নেই প্রশাসনের। গ্রাবাসীদের অভিযোগ, সাঁকো মেরামতে প্রশাসনের হেলদোল নেই।

দীর্ঘ ২০ বছরে ধরে উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা থানার হুদা গ্রামের মানুষ নিজেদের খরচে এই সাঁকো মেরামত করে আসছে। পঞ্চায়েত প্রধানকে বারবার জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে বিক্ষোভে নেমেছে প্রায় তিনটি গ্রামের মানুষ।
বাগদার ওই গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে গিয়েছে কোদালিয়া নদী। নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো। বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাঁকো মেরামতের ক্ষেত্রে প্রশাসনের কোনও ভ্রূক্ষেপ নেই। বর্ষা এলেই সাঁকো ভেসে যায়। যাতায়াতের উপায় থাকে না। অথচ নদীর এক পাড়ের হুদা, কনিয়ারা সহ চারটি গ্রাম আছে এপাড়ে। গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ওই পথে নদী পেরিয়ে বাগদার হেলেঞ্চা বাজার, হাইস্কুল, প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বাগদা থানা ও বনগাঁ শহর যাতাযাত করেন। নড়বড়ে সাঁকোটি দিয়ে চলছে বিপজ্জনকভাবে যানবাহন চলাচল সহ নিত্যযাত্রীদের নদী পারাপার। মাঝেমধ্যে সাঁকোটিতে দুর্ঘটনাও ঘটছে। বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, বর্ষায় সাঁকোটি ভেসে যাওয়ার পর স্থানীয়দের উদ্যোগে এই সাঁকো তৈরি করা হয়। যা এখন যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা কল্যাণী বিশ্বাস, রীতা মজুমদার বলেন, সাঁকো ছাড়া প্রায় ১২-১৫ কিলোমিটার ঘুরে আমাদের হেলেঞ্চা বাজারে যেতে হয়। পড়ুয়াদের পড়াশোনা বন্ধ হতে বসেছে। রাতে রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যায় না। পঞ্চায়েত ও প্রশাসনের আশ্বাস ছাড়া কিছুই মেলেনি। তাই বাধ্য হয়ে বিক্ষোভে বসেছি।
যদিও বাগদার বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস বলেন, কিছুক্ষণ আগেই বিক্ষোভের কথা শুনেছি। আমি সাত দিন আগেই সমস্ত পঞ্চায়েতকে জানিয়েছি কোথায় কোথায় বাঁশের সাঁকো আছে তাঁর একটা লিস্ট দিতে। সাত দিনের মধ্যে সেই সব সাঁকো মেরামত করে পারাপারের যোগ্য করে তুলব। পরে পাকা সেতু নিয়েও চিন্তা ভাবনা আছে।

