আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ৮ জুন: জল যন্ত্রনায় জেরবার পানিহাটি পৌর এলাকা। দীর্ঘদিন ঠিক করে জল না পাওয়ায় তীব্র জল কষ্টে ভুগছেন বাসিন্দারা। সেই পরিস্থিতি থেকে রেহাই পেতে অবশেষে দফায় দফায় পথ অবরোধ করলেন পানিহাটি পৌরসভার অন্তর্গত ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ সুভাষ নগর নিমাই চ্যাটার্জি রোড সংলগ্ন সুভাষ নগরের বাসিন্দারা।
দীর্ঘ ২ থেকে ৩ মাস জল কষ্টে ভুগছেন এই এলাকার বাসিন্দারা। বারবার পৌর প্রতিনিধি ও পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করেও লাভ হয়নি। জলের সমস্যা মেটাতে পৌরসভার পক্ষ থেকে জলের ট্যাঙ্ক পাঠানো হলেও সেটা জনসংখ্যার তুলনায় অপ্রতুল। তাই আজ
পানিহাটি পৌরসভার পক্ষ থেকে জল দিতে আসা জলের ট্যাঙ্ককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান এলাকার মহিলা থেকে পুরুষ সকলেই। জলের গাড়ির কল খুলে দেওয়া হয়। এলাকার মানুষের দাবি প্রায় দু’মাসের উপর ধরে এলাকায় জল নাই এবং প্রতিদিন যে সময় জল দেওয়া হয় সেই সময় থেকেও জল দেওয়ার সময় কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমন কি সুভাষ নগরে একটি পাম্প হাউস আছে সেটি ভাঙ্গচুর করে এলাকার উত্তেজিত জনতা।

তাদের দাবি, অবিলম্বে জল এবং রাস্তা বেহাল অবস্থা ঠিক করতে হবে। এমন কি এলালাকার বাসিন্দারা দাবি করেন, যে যতক্ষণ না পর্যন্ত এলাকার পৌর মাতা, পৌর প্রধান ও এলাকার বিধায়ক না আসবে ততক্ষণ তারা এই বিক্ষোভ ও রাস্তা অবরোধ চালিয়ে যাবেন। যার ফলে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এই সুভাষ নগর অঞ্চলে। এই এলাকার প্রায় চার হাজারের উপর পরিবার বসবাস করে। এই অঞ্চলের মানুষের মূল দাবি, রাস্তা ৪০ দিনের মধ্যে করে ঠিক করে দিতে হবে। তাদের অভিযোগ, পৌরসভার নির্বাচন শেষ হয়ে গেছে কিন্তু এখনো তাদের এলাকার কোনো উন্নয়ন নেই। সেখানে জলের অভাবে রান্না হয়নি এবং জল না পাওয়াই এখানকার সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ দেখানোর মূল কারণ।
এদিন এই বিক্ষোভ চলাকালীন ঘটনাস্থলে যান পানিহাটি পৌরসভার অন্তর্গত ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের পৌর মাতা শ্যামলী দেবরায়। সুভাষ নগর অঞ্চলে বিক্ষোভ চলাকালীন তিনি সেখানে যাওয়ায় পৌর মাতাকে ঘিরেও বিক্ষোভ দেখায় এলাকার মানুষ। তারা কাউন্সিলরকে ঘিরে একটাই দাবি দাবি করেন, যাতে অবিলম্বে তাদের জলের সমস্যা মেটানো যায় এবং রাস্তার ব্যবস্থা করা হয়। এদিন বিক্ষোভের মুখে পড়ে পৌর মাতা শ্যামলী দেবনাথ বলেন, ” পাম্পের সমস্যা আছে আর জলের সমস্যা তো ছিলো কিন্তু পাম্প সরানোর লোক এসেছে তারা কাজ করছেন। কিন্তু এখানে সিপিএমের কিছু লোক ছিল তাদের উস্কানি জন্য এত গণ্ডগোল হয়ে গেলো। আমার আসা খুব দ্রুত জলের সমস্যা মিটে যাবে।” কাউন্সিলর পাম্প সারিয়ে দ্রুত জলের সমস্যা মিটিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও সকাল থেকে জলের দাবিতে চলা এই বিক্ষোভ অবশেষে তুলে নেন এলাকার বাসিন্দারা।

