পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৩১ অক্টোবর: দুই ডিম চোরকে হাতেনাতে পাকড়াও বাড়ির মালিকের। শাস্তি হিসাবে তাদের ছেড়ে দেওয়া হল ঘন জঙ্গলে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি বালুরঘাটের মণিপুর এলাকার। রবিবার রাতেই ওই দুই ডিম চোরকে ছাড়া হয়েছে স্থানীয় একটি নির্জন জঙ্গলে। অবাক করা এই ঘটনায় রীতিমতো আলোড়ন পড়েছে এলাকা সহ গোটা বালুরঘাটে।
জানা গেছে, বালুরঘাট শহর থেকে সামান্য দূরে মণিপুর এলাকায় স্থানীয় এক বাসিন্দার বাড়ি থেকে রোজ হাঁস ও মুরগির ডিম চুরি যাচ্ছিল। কৃষিকাজ করবার পাশাপাশি বিভিন্ন গবাদি পশু ও হাঁস মুরগি পালন করেই সংসার চালান তিনি। কিন্তু রোজ হাঁস ও মুরগির ডিম এভাবে চুরি হওয়াতে যথেষ্টই দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন। চোরকে ধরতেও রীতিমতো কালঘাম ছোটার জোগাড় হয়েছিল। অবশেষে শনিবার রাতে এক চোরের সন্ধান পান। বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত বাথরুমেই ঘাঁটি গেড়েছিল তাদের একজন। যা দেখতেই রীতিমতো আঁতকে উঠেছেন তারা। শুনতে কিছুটা গল্পের মতো মনে হলেও বাস্তবটা দেখে চমকে গিয়েছেন মণিপুর গ্রামের অনান্য বাসিন্দারাও। তাদের আর্তনাদেই এলাকায় ছুটে গিয়েছিলেন সর্পপ্রেমী সুব্রত ঘোষ। যেখান থেকেই উদ্ধার হয়েছে দুটি বড় মাপের গোখরো সাপ। যারাই পরিত্যক্ত বাথরুমে আশ্রয় নিয়ে রোজ হাঁস ও মুরগির ডিম চুরি করে খাচ্ছিলো। এলাকায় গিয়ে তাদের উদ্ধার করে ওইদিন রাতেই বালুরঘাটের জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। একটির মুখ থেকে বের হওয়া ডিমও উদ্ধার করেছেন ডাকরার বাসিন্দা সর্পপ্রেমী সুব্রত ঘোষ।
সুব্রত বাবু জানিয়েছেন, রোজ হাঁস ও মুরগির ডিম চুরি যাচ্ছিল। পরিত্যক্ত বাথরুমে ঘাঁটি গেড়ে তার পাশে থাকা হাঁস ও মুরগির ঘর থেকেই ডিম চুরি করতো ওই দুই গোখরো। এদিন তাদের একটির পেট থেকে আস্ত ডিম উদ্ধার হয়েছে। তার কথায় সাপেরা কোনো বিপদ বুঝলে পেটের ভিতরের খাবার বাইরে বের করে দেয়। এদিন তাদের ধরবার পরেই একটির মুখ থেকে আস্ত ডিম বেরিয়ে এসেছে। নির্জন জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তাদের।

