স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ১৮ অক্টোবর: প্রাণে বাঘের ভয়। তাই এবার বাঘের ভয়েই রাতে মৃতদেহ শ্মশানে দাহ করতে নিয়ে যেতে ভয় পাচ্ছেন বাসিন্দারা। এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুর থানার কালনাগিন গ্রামে। গ্রামবাসীরা বনদফতরের বিরুদ্ধে খামখেয়ালিপনার অভিযোগ তুলছেন।

সোমবার রাতে ইসলামপুরের কালনাগিন গ্রামের বিপুল সিংহের এক বৃদ্ধা আত্মীয়ের বার্দ্ধক্য জনিত রোগে মৃত্যু হয়। আত্মীয়ের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের লোকেরা যখন শোকে বিহ্বল সেই সুযোগে এলাকার বাঘটি এসে তাদের বাড়িরই এক গবাদি পশুকে টেনে নিয়ে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই গ্রাম জুড়ে ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। মৃত্যুর খবর পেয়ে প্রতিবেশীরা মৃতদেহ দাহ করতে সেই বাড়িতে গেলেও বাঘের হানায় গবাদি পশুর মৃত্যুর খবর জানার পরই একে একে সকলেই নিজেদের বাড়িতে ফিরে যান। বাঘ তাদের বাড়ির গবাদি পশু, ছোট ছোট শিশুদের উপর আক্রমন করতে পারে এই আশঙ্কায় প্রতিবেশীরা কেউ রাতে শ্মশানে যেতে রাজি হননি। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, সকাল না হওয়া পর্যন্ত তারা কেউ শ্মশানে যেতে পারবেন না। লোকের অভাবে মৃতদেহ বাড়িতেই পড়ে থাকে।

গত কয়েকদিন যাবদ এই কালনাগিন গ্রামে বাঘের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে বাঘের হানায় বেশ কয়েকটি গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে। বনদপ্তরের তরফ থেকে বাঘ ধরার জন্য খাঁচা পাতা হলেও আজও বাঘ ধরা পড়েনি। বনদপ্তরের কর্মীরা সেখানে থাকলেও তারা বাঘ ধরার জন্য তেমন কোনো পদক্ষেপ না করায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

