খড়দহের এক বেসরকারি আবাসনে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় আতঙ্কিত বাসিন্দারা

প্রতীতি ঘোষ, আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ১৪ নভেম্বর: খড়দা বিধানসভার এক বেসরকারি আবাসনে ৫০- এর বেশি জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে ওই আবাসনের বাসিন্দাদের মধ্যে।

ব্যারাকপুর ব্লক ২ এর খড়দহ বিধানসভার পাতুলিয়া পঞ্চায়েতের অন্তর্গত এক নামিদামি আবাসনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে বাসিন্দারা। এই আবাসনের কোনও না কোনও ফ্ল্যাট থেকেই প্রায় দিন আসছে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার খবর। আর বাড়তে বাড়তে সংখ্যায় ১ বা ১০ না, এই আবাসনের ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা পঞ্চাশ পেরিয়ে গেছে। আবাসনের যারা বাসিন্দা তারা সরাসরি বলছেন আবাসন হস্তান্তর করার পূর্বের আবাসনের সমস্ত কাজ সেই আবাসনের কর্তৃপক্ষ করেননি। এই আবাসনের অনেক অংশের কাজ এখনো চলছে এবং এই কাজের জন্যই জমছে জল এবং সেই জল থেকেই ডেঙ্গু ছড়াচ্ছে বলে আবাসনের বাসিন্দাদের অভিযোগ। সেই সঙ্গে আবাসন কর্তৃপক্ষ ঠিক করে এই আবাসনের রক্ষনাবেক্ষণ করে না, জমা জলের সমস্যা রয়েছে বলেও অভিযোগ বাসিন্দাদের।

আবাসনের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বহু পরিবারের সদস্যরা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানালেন, বর্তমানে কতটা আতঙ্কে রয়েছেন তারা। আবাসনের বাসিন্দাদের অভিযোগ, “আমাদের এই আবাসনে প্রায় প্রতিটি ফ্ল্যাটেই কেউ না কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। অনেকে তো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আমরা বহুবার আবাসনের কর্তৃপক্ষকে আবাসনের রক্ষনাবেক্ষণ করার কথা বললেও কোনও কাজই করছে না। এখানে ঘরে ঘরে ডেঙ্গু হচ্ছে বলে পঞ্চায়েতকেও জানানো হয়েছিল তারা এসে তাদের কাজ করলেও আবাসনের কর্তৃপক্ষের কোন ভূমিকা নেই। তারা আবাসনে জমে থাকা জল গুলো ঠিক করে পরিষ্কার করে না। এমনকি বাসিন্দাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অনেক সুযোগ সুবিধাই দেয়নি তারা।”

এই প্রসঙ্গে পাতুলিয়া পঞ্চায়েতের উপ প্রধান কিশোর বৈশ্য বলেন, “করোনার কারণে ওই আবাসনে বাইরের কাউকে ভেতরে যেতে দেওয়া হয় না, ফলে ওই আবাসনের ভেতরে জল জমে থাকার কথা শুনলেও আমরা কিছু করতে পারছি না। তবে আবাসনে কত জন ডেঙ্গু আক্রান্ত আছে সেটা সঠিক হিসাব পেতে আমরা সার্ভে শুরু করেছি। আবাসনের ছাদে অনেক লিকেজ রয়েছে। এই আবাসনের যেখানে যা গাফিলতি আছে সেগুলো দ্রুত ঠিক করে দেওয়ার নির্দেশ আবাসন কর্তৃপক্ষকে দেওয়া
হয়েছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *