পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৪ আগষ্ট: জরাজীর্ণ অবস্থায় বছরের পর বছর ধরে ঝুলছে বাঁশের সাকো। জীবন হাতে নিয়ে হামাগুড়ি দিয়েই চলছে প্রতিদিন কয়েকশো মানুষের যাতায়াত। এবার উদাসীন প্রশাসনের ভুমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ বাসিন্দাদের। বুধবার বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা ওই বাঁশের সেতু মেরামতের দাবি তুলে পঞ্চায়েত অফিসের সামনে তুমুল বিক্ষোভ দেখায় গ্রামবাসীরা। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হরিরামপুর
ব্লকের বৈরাট্টা গ্ৰাম পঞ্চায়েতের ঘোলা পুকুর খুচি বাড়ি এলাকার।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, গত চার বছর ধরে ঘোলা পুকুর, খুচি বাড়ি, ফজলা পুর, বীর কামাল, চৌঘরিয়া, কাঠালতলী, কামারডাঙ্গা এলাকায় বালিয়ান নদীর উপর অবস্থিত বাঁশের সাঁকোটি বেহাল অবস্থায় রয়েছে। ভেঙ্গে গিয়েছে সাঁকোর একাংশ। যার ফলে জীবন হাতে নিয়ে একপ্রকার হামাগুড়ি দিয়ে বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়েই চলছে কয়েকশো মানুষের যাতায়াত। এলাকার মানুষদের হাট-বাজার ,স্কুল – কলেজ সবখানে যাতায়াতের জন্য একমাত্র ভরসার রাস্তা দীর্ঘ বছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

দিনের আলোতে হামাগুড়ি দিয়ে চলাচল করলেও রাতে চিকিৎসা পাবার ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগে পড়েন ওই এলাকার বাসিন্দারা বলে অভিযোগ। যা নিয়ে বিগত দিনে পঞ্চায়েত প্রধানকে একাধিকবার জানানো হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের। আর যার জেরে এদিন গ্রাম পঞ্চায়েতে অফিসের সামনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা। যাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। যদিও পরে পঞ্চায়েতের তরফে সাঁকো মেরামতের আশ্বাস দিলে স্বাভাবিক হয় পরিস্থিতি।
এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম, হাফিজুর রহমান, সোলা সরেনরা বলেন, দীর্ঘ প্রায় চার বছর ধরে এই বাঁশের সেতুটি বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে নদী পারাপার হতে হচ্ছে গ্রামবাসীদের। কারো নজর নেই। পঞ্চায়েত প্রধানকে জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি। তারা চান দ্রুত এই বাঁশের সেতু মেরামত করা হোক।

বৈরাট্টা গ্ৰাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান আব্দুল রাজ্জাক জানিয়েছেন, এর আগে আমরা অভিযোগটা পেয়েছিলাম। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের জন্য কাজটা করতে পারিনি এবার আমরা দ্রুত এই কাজটি সম্পূর্ণ করবো।
এ বিষয়ে হরিরামপুর ব্লক এর বিডিও পূজা দেবনাথ জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে পঞ্চায়েত প্রধানের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ওই বাঁশের সেতুটি মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।

