অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ১০ ডিসেম্বর: গবেষণা ক্রমেই গণিত ও কম্পিউটারভিত্তিক হয়ে গিয়েছে। আরও বেশি ‘কম্পিউটেশনাল’ হয়ে যাবে। নবীন অধ্যাপক ও হবু গবেষকদের কর্মশালায় শনিবার এ নিয়ে পাঠ দিলেন ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইন্সটিট্যুটের গবেষক-অধ্যাপক শুভময় মৈত্র।
গবেষণায় সমাজ ও রাজনীতি সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। তাঁর গবেষণার আগ্রহ কম্পিউটার বিজ্ঞানের সাথে সম্পর্কিত। তিনি বলেন, গবেষণায় কম্পিউটেশনাল এবং যোগাযোগ সম্পর্কিত অবকাঠামোর যেসব সুবিধা আছে, সেগুলোর সদ্ব্যবহার দরকার। যৌক্তিক পদ্ধতিতে সমস্যাগুলির তথ্য সংগ্রহ করার পরে আরও ভালভাবে অধ্যয়ন করা যেতে পারে। আমরা এরকম কিছু পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করছি।
উদাহরণ দিতে গিয়ে শুভময়বাবু বলেন, ধরুন ‘বহু রাজনৈতিক দল দুর্নীতিগ্রস্ত’— এই আলোচনায় প্রথমে আমাদের দুর্নীতি শব্দটার সংজ্ঞা নির্দ্ধারণ করতে হবে। বা, ‘পশ্চিমবঙ্গের খুব উন্নতি হচ্ছে’— এরকম শিরোনামের চর্চায় উন্নতির সংজ্ঞাটা জানা আবশ্যিক। তার পর কম্পিউটার সায়েন্সের ‘টুলস’ বা সূত্র প্রয়োগকরে কাঁটাছেঁড়া করতে হবে।
শুভময়বাবুর কথায়, “উন্নত দেশের তুলনায় আমাদের দেশে সমাজবিজ্ঞানের গবেষণার মান কিছুটা পিছিয়ে। গাণিতিক প্রয়োগটা প্রায় হয়ই না। এর কারণ, নিচু ক্লাশের পড়ুয়াদের সঙ্গে অঙ্ক ও রাশিবিজ্ঞানের পরিচয় থাকে না। যে কোনও বিশ্লেষণ এখন অনেক বেশি বিজ্ঞানভিত্তিক হয়ে গিয়েছে। এগুলো গবেষক, অধ্যাপকদের আরও বেশি করে বোঝার চেষ্টা করতে হবে।“
এদিনের কর্মশালায় ক্রমেই বদলে যাওয়া গবেষণার ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেন কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগের ডিন ডঃ অমলেন্দু বিশ্বাস। ভার্চুয়াল আলোচনা করেন যথাক্রমে অধ্যাপক কুমার সুরেশ এবং ব্রিটেনের অধ্যাপক ডঃ হোলব্রুক। তাঁদের আলোচনার শিরোনাম ছিল যথাক্রমে ‘রি থিঙ্কিং রিসার্চ, রিসার্চ প্রসেস অ্যান্ড রিসার্চ আউটকামস‘ এবং ‘অ্যাসেসিং দি ইমপ্যাক্ট অফ ফরমেটিভ অ্যাসেসমেন্ট’।
কলকাতায় বাবা সাহেব অম্বেদকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটির (বিএসএইইউ, পূর্বতন দি ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি অফ টিচার্স ট্রেনিং, এডুকেশন, প্ল্যানিং অ্যান্ড অ্যাডমিনিষ্ট্রেশন) উপাচার্য ডঃ সোমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তত্বাবধানে জাতীয় পর্যায়ের সাত দিনের এই শিক্ষাশিবির বুধবার শুরু হয়েছে। বিষয় ‘রিসার্চ মেথডোলজি’। শনিবার ছিল তার চতুর্থ দিন।

