চপ শিল্প নিয়ে গবেষণা, সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী

স্বরূপ দত্ত, উত্তর দিনাজপুর, ২০ জুলাই: ‘চপ শিল্প’কে গবেষণার বিষয় করে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। “মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় গবেষণায় চপ শিল্প” এই নামে ৫২ পাতার একটি গবেষণাপত্র ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের স্নাতকোত্তর স্তরের চতুর্থ সেমিস্টারের ওই ছাত্রী ‘চপ শিল্প’ নিয়ে গবেষণা করেন। রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ছাত্রীর নাম কণা সরকার। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে আরো জানা গিয়েছে, তাঁর গবেষণার এই বিষয়টি বেছে দিয়েছেন তাঁর তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক ড. তাপস পাল। সেই গবেষণাপত্রই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

কণা সরকার তাঁর গবেষণা পত্রে উল্লেখ করেছেন, ‘চপ শিল্প’ কী ভাবে একটা সংসার চালাতে সাহায্য করে সেটাই তাঁর গবেষণার বিষয়। গবেষণাপত্রের টাইটেলে লেখা রয়েছে, “মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় গবেষণায় চপ শিল্প”। এই গবেষণাপত্র সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় নেটিজেনদের বির্তকের মূল বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে।

রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ছাত্রীর গবেষণার বিষয় ছিল ‘গ্রামীণ চপ শিল্প ও সংসার পরিচালনায় তার প্রভাব’। তিনি তাঁর গবেষণাটি করেছেন মালদা জেলার তিনটি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকায়। গাজোল ১ এবং ২ ও করকোচ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা নিয়ে তিনি গবেষণা চালান। বিষয়টি প্রকাশ্যের আসতেই শুরু হয়েছে নানা বিতর্ক।

কেউ কেউ বলছেন, মুখ্যমন্ত্রীকে ব্যাঙ্গ করে এই রকম একটা বিষয়ের ওপর গবেষণা করা হয়েছে। আবার কারোর কারোর মতামত, মুখ্যমন্ত্রী যে সঠিক দিশা দেখিয়েছিলেন সেটাই প্রমাণিত হল এই গবেষণা পত্র থেকে।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. তাপস পালের কাছে জানতে চাইলে তিনি রীতিমতো রেগে যান। তিনি বলেন, অসংগঠিত ক্ষেত্রগুলোকে তারা ধীরে ধীরে সংগঠিত ক্ষেত্রে নিয়ে যেতে চান। একটি আর্টিক্যাল থেকে তারা জানতে পারেন যে দেশের ৮৩ শতাংশ অসংগঠিত অর্থনৈতিক ক্ষেত্র আছে। ১৭ শতাংশ সংগঠিত অর্থনীতি। দেশের উন্নতিতে এই ছোট ছোট ব্যবসাগুলোর অনেক অবদান রয়েছে। এই গবেষণায় উঠে আসা তথ্য বলছে, বহু পরিবার চপ বিক্রি করে সংসার চালান। তাদের মধ্যে ৬৪ শতাংশই মহিলা। তবে এটা নিয়ে এত সমালোচনার তীব্র নিন্দা করেছেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, যে গবেষণাপত্র জমা পড়েছে তাতে কোথাও অমন টাইটেল দেওয়া নেই। তিনি তাঁর নিজস্ব ফেসবুক একাউন্টে যেকোনো ছবি দিতেই পারেন। সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। তা নিয়ে এত সমালোচনার তীব্র বিরোধিতা করেছেন।

‘চপ শিল্প’ নিয়ে গবেষণা ও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল প্রসঙ্গে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা, বাণিজ্য ও আইন বিভাগের ডিন অধ্যাপক দীপক কুমার রায় বলেন, বিষয়টি তাঁর আগে জানা ছিল না। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে বলে তিনি দেখেছেন যে এমন একটি টাইটেলে একটি গবেষণা পত্র জমা পড়েছে। তবে অমনভাবে গবেষণা পত্র জমা দেওয়া যায় না বলেই তিনি জানেন। তিনি বলেন, গবেষণা পত্রটি জমা পড়েছে সেখানে অমন টাইটেল আছে কিনা সেটা আগে দেখতে হবে। অমন টাইটেল না থাকাই বাহ্য। তবে সত্য মিথ্যা যাচাই করে মন্তব্য করা উচিৎ বলে জানান তিনি। তবে গোটা ঘটনায় তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে সামাজিক মাধ্যমে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *