আমাদের ভারত, ৬ মার্চ: রাশিয়া থেকে তেল কিনতে পারবে ভারত। শেষ পর্যন্ত ভারতকে ছাড়পত্র দিল আমেরিকা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে ভারতে তেল সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছিল। সেই আশঙ্কা থেকে নয়া দিল্লিকে স্বস্তি দিল আমেরিকার এই ছাড়পত্র।
কয়েকদিন আগে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছিল, ভারতের ভান্ডারে ২৫ দিনের পরিশোধিত ও অপরিশোধিত তেল মজুদ আছে। কিন্তু যুদ্ধ চলতে থাকলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে। ফলে ভারতের তেলের ভান্ডার শূন্য হতে সময় লাগবে না। অন্যদিকে ভারতের তেলের ভান্ডার শেষ হতেও সময় লাগবে না।
এদিকে রাশিয়া জানিয়েছিল, ভারতকে তেল দিতে বা যে কোনো প্রয়োজনে সাহায্য করতে তারা প্রস্তুত। কিন্তু রাশিয়া থেকে তেল না কেনার শর্তেই ভারতের উপর শুল্ক কমিয়েছিল আমেরিকা।সেক্ষেত্রে রাশিয়া থেকে ভারত আদৌ তেল কিনবে কিনা সে বিষয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। অবশেষে রাশিয়া থেকে তেল কেনায় ভারতকে ছাড়পত্র দিল আমেরিকা।
রাশিয়া থেকে তেল কেনার বিষয়ে ভারতকে সাময়িক ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। ৩০ দিনের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। সময়সীমা নিয়ে ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, ৫ মার্চ থেকেই রাশিয়া থেকে তেল আমদানির সময়সীমা শুরু হয়ে গিয়েছে। ৩ এপ্রিল পর্যন্ত তেল আমদানি করতে পারবে ভারত। আমেরিকার ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেনেট পোস্ট করে ৩০ দিনের অনুমোদনের বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন।
তিনি লিখেছেন, ট্রাম্পের জ্বালানি কর্মসূচি তেল ও গ্যাস উৎপাদনকে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে দিয়েছে। বিশ্ব বাজারে তেলের সরবরাহ অব্যাহত রাখতে ট্রেজারি বিভাগ রাশিয়ার থেকে তেল কেনার বিষয়ে ৩০ দিনের অনুমতি দিয়েছে ভারতকে।
ওই পোস্টটিতে ভারত- আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কথা উল্লেখ করা হয়েছে। স্কট বেনেট লিখেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ভারত। আমরা আশা করছি আগামী দিনে আমেরিকা থেকে তেল কেনা বাড়াবে ভারত।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আবহে বন্ধ হরমুজ প্রণালী। তেলবাহী জাহাজ চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইরান। শুধুমাত্র রাশিয়া এবং চিনে তেলবাহী জাহাজকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, ভারতীয় জলসীমার কাছে রাশিয়ার প্রায় ১৫ লক্ষ ব্যারেল তেল রয়েছে। সেটা ভারত ব্যবহার করতে পারে বলে আগেই জানিয়েছিল রাশিয়া। বৃহস্পতিবার হরমুজ নিয়ে ইরানের বিদেশ মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন জয় শংকর। হরমুজ প্রণালী নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথাবার্তা হয়েছে। তারপর থেকেই মনে করা হচ্ছিল হরমুজ নিয়ে তৈরি হওয়া সংঘাতের প্রভাব ভারতে খুব একটা পড়বে না। তারপর আমেরিকার তরফে রাশিয়া থেকে তেল কেনায় ছাড়পত্র দিল আমেরিকা।

