আমাদের ভারত, ৭ অক্টোবর: নয়া দিল্লির ডঃ আম্বেদকর ভবনে শুক্রবার বুদ্ধিস্ট সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ার উদ্যোগে একটি ধর্মান্তকরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আপ মন্ত্রী রাজেন্দ্র পাল গৌতম। এই অনুষ্ঠানে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বি আর আম্বেদকরের নিকট আত্মীয় বৌদ্ধ সন্ন্যাসী রাজরত্ন আম্বেদকর। এই অনুষ্ঠানের ১০ হাজার হিন্দু বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এই ঘটনা সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে ওপিইন্ডিয়া (opindina) নামক একটি নিউজ পোর্টালে।
এই অনুষ্ঠানে রাজ রত্না আম্বেদকর হিন্দু ধর্মকে নরকের সঙ্গে তুলনা করেছেন, তিনি বলেছেন, “আমি নরক থেকে বেরিয়ে এসেছি।” তিনি হিন্দু ধর্ম তথা ব্রাহ্মণ্য ধর্মকে নরকের সাথে তুলনা করে বলেন, বৌদ্ধধর্মে স্বর্গ এবং নরকের কোনও ভাবনা নেই। কিন্তু সেটা যদি থাকতো তাহলে তা হতো নরক। তার দাবি, আম্বেদকরও নাকি তাই বলেছিলেন।
তিনি বলেন, “আমি অনুরোধ করছি যারা এখনো ব্রাহ্মণ্য ধর্মের সাথে জুড়ে আছেন তারা নরক ত্যাগ করে বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করুন।” ৮ মিনিট ৪১ সেকেন্ডের বক্তব্যে তিনি বলেছেন, “আমরা যে সব তেত্রিশ কোটি দেব-দেবীর পেছনে দৌড়াচ্ছি তারা সকলেই স্বর্ণ বৌদ্ধের চারিদিকে ঘুরছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, নীতিন গড়কড়ি, নরেন্দ্র মোদী, দেবেন্দ্র ফড়নবিশের মতো নেতারা আম্বেদকরের নাম ব্যবহার করে নিজেদের বৌদ্ধ অনুগামী হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। এমনকি যোগী আদিত্যনাথ যিনি নিজেকে একজন সন্ন্যাসী বলে দাবি করেন তিনি বিশ্বের মানুষকে ভুল বোঝার চেষ্টা করেন, তিনি একজন বৌদ্ধ সন্ন্যাসী হয়ে ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।
হুঁশিয়ারির সুরে তিনি বলেন, আমি খুব শীঘ্রই বিশ্বের বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলিতে গিয়ে ভারতে বৌদ্ধ ধর্মের আসল পরিস্থিতির কথা তুলে ধরব এবং ভারতের মুখোশ খুলে দেবো।
রাজ রত্ন বলেন, মোদী সরকার দেশের সমস্ত কিছুর বেসরকারিকরণ করে ফেলবে এবং তারপর জাতি ভিত্তিক সমস্ত সংরক্ষণ তুলে দেবে।
তিনি দাবি করেছেন, অনেক হিন্দু নিজেদের ধর্ম পরিবর্তন করতে ভয় পান কারণ তারা তাহলে সংরক্ষণের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। হিন্দুদের বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করে নিজেদের ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিসেবে দেশের পরিচিতি লাভ করুন ও সংখ্যালঘু হবার সমস্ত রকম সুবিধা ভোগ করুন।
তার আরও দাবি, ভারতের সংবিধান আসলে বৌদ্ধধর্ম দ্বারা অনুপ্রাণিত। বৌদ্ধ ধর্ম ছাড়া অন্য কোনও ধর্ম সমতা এবং ভাতৃত্বের কথা বলে না।
অন্যদিকে ওই অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ ধর্মের হয়ে শপথ নিয়েছেন আপ মন্ত্রী রাজেন্দ্র পাল গৌতম। ভাইরাল হওয়া সেই জনসমাগমের ভিডিওতে তাকে বলতে দেখা যাচ্ছে, আমি “ব্রহ্মা, বিষ্ণু মহেশ্বরের ওপর আর আস্থা রাখবো না, আমি কৃষ্ণ এবং রামের পুজো করবো না।” এই অনুষ্ঠানের পর টুইটারে তিনি লেখেন, আসুন আমরা বৌদ্ধের উদ্দেশ্যে জয় ভীম মিশনের ডাক দিই।
আপ মন্ত্রীর এই কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে বিজেপি। অমিত মালব্য টুইটারে লেখেন, “এরা ভারতকে ভাঙতে চাইছে। হিন্দু বিদ্বেষী প্রচারের মূল উদ্যোক্তা হলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এটা হিন্দু এবং বৌদ্ধ ধর্মের -অপমান।” বিজেপি সাংসদ মনোজ তিওয়ারি লেখেন, আপ নেতারা দেশে দাঙ্গা বাধাতে চাইছেন। এইসব নেতাদের অতিসত্বর দল থেকে বহিষ্কার করা উচিত। আমরা ওর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করছি।”

