হারিয়ে যাওয়া বিহারের রেখা কুমারী পাঁচ বছর পর ফিরে পেল পরিবার

আমাদের ভারত, পূর্ব মেদিনীপুর, ২৩ মে: দীর্ঘ পাঁচ বছর পর পরিবার ফিরে পেল বিহারের ছাপরার রেখা কুমারী দেবী। শারীরিক অসুস্থতার জন্য ডাক্তার দেখাতে বাড়ি থেকে রওনা দেওয়া রেখা কুমারীর সঙ্গে স্বামীর যাওয়ার কথা থাকলেও কাজে ব্যস্ত থাকার জন্য যেতে পারেননি। স্বামী রেখাকে বলেন, তুমি ট্রেনে করে ফরেস্টেশনে ডাক্তারের কাছে গিয়ে অপেক্ষা করো আমি একটু পরে আসছি। রেখা ভুল করে দূরপাল্লার ট্রেনে চেপে পড়ে। তারপর যখন বুঝতে পারে রেখা বহুদূর চলে এসেছে, তখন তড়িঘড়ি করে ট্রেন থেকে নেমে যায় এবং কোলাঘাটে দিশাহারা অবস্থায় ঘোরাফেরা করতে থাকে। সেখানে উদভ্রান্ত রেখাকে রেল পুলিশ দেখে। রেখার তখন মনের অবস্থা এমন ছিল যেন সব বুদ্ধি লোপ পেয়েছে। কিছুই বলতে পারছিল না রেখা।

রাজ্য পুলিশের সহায়তা নিয়ে নিমতৌড়ী তমলুক উন্নয়ন সমিতির স্বাধার গৃহ হোমে থাকা রেখা দেবীর দীর্ঘ চিকিৎসা এবং কাউন্সেলিং করে জানতে পারা যায় রেখা দেবীর ঠিকানা। যোগাযোগ করা হয় ছাপরা থানার পুলিশের সঙ্গে। সেখানকার থানার পুলিশও কিছুটা সময় নিয়ে নেয় তারপর খুঁজে পাওয়া যায় রেখা কুমারী দেবীর বাড়ি। রেখার ছবি দেখে বাড়ির লোকজনেরা রেখাকে চিনতে পারে। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর ধরে রেখার স্বামী দিল্লি, কলকাতা, মুম্বাই সহ বিভিন্ন স্থানে খুঁজে বেড়িয়েছিলেন। প্রায় রেখার আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন। এরপর থানা থেকে ওদের কাছে খবর যায় এবং পরে সমস্ত নিয়ম কানুন মেনে আজ দেখাদেবী স্বামীর হাত ধরে নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বাড়িতে রেখার দুই ছেলে ও এক মেয়ে আছে। বড় ছেলে বাবার সাথে সবজি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হলেও মেয়ে মা হারিয়ে যাওয়ার পর লেখাপড়া বন্ধ করে দিয়েছে। ছোট ছেলে যথারীতি পড়াশোনার সাথে যুক্ত আছে।

বড়ই আফসোস রেখা দেবীর, হোমের সুপার রিক্তা সিংহ বলেন, হোমে আসার পর রেখা দেবীকে শারীরিক ভাবে সুস্থ করে তোলার সঙ্গে সঙ্গে আমরা স্বাক্ষর করেছি ও টেলারিংয়ের কাজ শিখেছে। এছাড়াও নার্সারীর কাজে নিজেকে নিপুন করে তুলেছে রেখা কুমারী দেবী। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর ও বাড়ি ফিরে যাচ্ছে এটাই আমাদের আনন্দের।

নিমতৌড়ী তমলুক উন্নয়ন সমিতির সাধারণ সম্পাদক যোগেশ সামন্ত জানান, কোনো মেয়ে হোমে এলে প্রথম তার শারীরিক চিকিৎসা, মানসিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাতে কলমে কিছু শিখিয়ে বাড়ির ঠিকানা খুঁজে বের করা অথবা যদি বাড়িতে বিবাদ থাকে সেগুলো মিটিয়ে বাড়িতে ফেরানোই আমাদের প্রধান কাজ। রেখা কুমারী দেবীর ক্ষেত্রে সেই কাজ করতে পেরে আমরা অত্যন্ত খুশি। রেখাকে সুস্থ করা এবং বাড়ি ফেরানোর ক্ষেত্রে পুরো টিম স্বাধার গৃহের সুপার রিক্তা সিংহ ও কাউন্সেলর রাখী মোহন্ত যেমন কাজ করেছে, তেমনি প্রশাসনের সাহায্যও অনস্বীকার্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *