পাট্টা জমির পরচার দাবিতে বড়জোড়ায় বিএলআরও অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ উদ্বাস্তু সংগঠনের

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২১ মার্চ: পাট্টা প্রাপ্ত জমির পরচার দাবিতে বড়জোড়া
বিএলআরও অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখালো কেন্দ্রীয় বাস্তুহারা পরিষদ। এদিন এই বিষয়ে ডেপুটেশন দিতে গিয়ে বিএলআরও’কে না পেয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে অফিসে তালা লাগিয়ে দেয়।

বড়জোড়া ব্লকের ঘুটগড়িয়া ও বড়জোড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার দামোদর মানাচরে বাংলাদেশী শরণার্থী উদ্বাস্তুরা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। বামফ্রন্টের আমলে তারা জমির পাট্টা পেলেও এখনও জমির পরচা পাননি। পরচা সহ নানা দাবি আদায়ের জন্য সম্মিলিত কেন্দ্রীয় বাস্তুহারা পরিষদ নামে একটি সংগঠন গড়ে আন্দোলন করছেন। কিন্তু কোনো সদর্থক ভূমিকা না দেখে সোমবার সংগঠনের পক্ষ থেকে উদ্বাস্তু শরণার্থীদের জমির পরচা দেওয়ার দাবিতে বড়জোড়া বিএলআরও অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। এই বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন বড়জোড়ার সিপিএমের প্রাক্তন বিধায়ক সুজিত চক্রবর্তী। উপস্থিত ছিলেন সিপিএমের জেলা সম্পাদক অজিত পতি, কৃষক নেতা সুজয় চৌধুরী ও যদুনাথ রায়। তারা ডেপুটেশন দিতে গেলে বিএলআরওকে না পেয়ে তারা অফিসে তালা ঝুলিয়ে দলীয় পতাকা বেঁধে দেন। এরপর বিক্ষোভকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায় ভূমি সংস্কার দফতরে। অফিসের সামনে ধরনা অবস্থানে বসে পড়েন  প্রাক্তন বিধায়ক সহ সিপিএম কর্মী সমর্থক ও সংগঠনের সদস্যরা। পুলিশ এলে তাদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন বিধায়ক ও সুজয় চৌধুরী। পরে ভূমি রাজস্ব আধিকারিক অফিসে এসে বিক্ষোভকারীদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দিলে অফিস খুলে দেওয়া হয়।

বাঁকুড়ার বড়জোড়া ব্লকের অধীন রয়েছে চারটি উদ্বাস্তু কলোনি। এই চারটি কলোনিতে বসবাস করেন কয়েক হাজার উদ্বাস্তু পরিবার। আন্দোলনকারী সংগঠনের জেলা সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ মন্ডল বলেন, আমাদের বসবাসের জমির দলিল দেওয়া হলেও আজও তার পরচা পায়নি। বারবার সংশ্লিষ্ট দফতরে আবেদন জানিয়েও আধিকারিকদের টালবাহানায় কিছু হয়নি। পরচা না পাওয়ার ফলে  সমস্ত সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি আমরা। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপের জন্য আগে ভূমি রাজস্ব দফতরে আবেদন জানিয়েছি আমরাও, বলে মন্তব্য করেন প্রাক্তন বিধায়ক সুজিত চক্রবর্তী। কিন্তু সেই আবেদনে কর্ণপাত করেননি বিএলআরও। অবিলম্বে ওই জটিলতা কাটিয়ে উদ্বাস্তুদের হাতে জমির পাট্টা প্রদান ও ভূমি রাজস্ব দফতরের পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতি বন্ধের দাবিতে এদিন আমরা ডেপুটেশন দিয়েছি। এদিন বেলা ১১ টার সময় বড়জোড়া চৌমাথা থেকে মিছিল করে বিএলআরও অফিসে যান সংগঠন ও সিপিএম কর্মী সমর্থকরা।

এদিকে অফিসে তালা দেওয়া প্রসঙ্গে বড়জোড়ার তৃণমূল বিধায়ক অলক মুখার্জি বলেন, এটা অগণতান্ত্রিক। আমাদের সরকার জমির রেকর্ড করা থেকে শ্রেণি পরিবর্তন সবই অনলাইনে ব্যবস্থা করেছেন। নিয়ম মেনে আবেদন করলে নির্দিষ্ট সময়ে তা পাওয়া যাবে। সিপিআইএম বিধানসভায় বিগ জিরো ও পুরসভা নির্বাচনে আরও বড় গোল্লা পেয়ে মনে করছে গায়ের জোর দেখালে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবে। কিন্তু মানুষ তাদের বুঝিয়ে দিয়েছেন এরাজ্যে তারা অপ্রাসঙ্গিক।

অলক মুখার্জি বলেন, শরণার্থীদের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহানুভূতিশীল। তারা দাবি দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করতেই পারেন। তার একটা পদ্ধতি আছে। বিএলআরও পার্থপ্রিয় মুখার্জি বলেন, স্মারকলিপিটি এডিএম ও এডিএলআরও’র কাছে বিবেচনার জন্য পাঠিয়ে দেব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *