নিয়োগ দুর্নীতির টাকা হাওয়ালার মাধ্যমে বাংলাদেশে পৌঁছেছে, টেক্সটাইল কোম্পানিকে নোটিশ ধরিয়েছে ইডি

আমাদের ভারত, ২৪ জুলাই: এসএসসি দুর্নীতি কাণ্ডে পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রেপ্তারের পর থেকেই চাপ বাড়তে শুরু করেছে তৃণমূলের ওপর। এরপর পার্থ ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায় গ্রেপ্তার ও তার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হওয়া ২১ কোটি টাকার উৎসের খোঁজ শুরু করেছে ইডি। আর তাতেই পারদ চড়ছে আরও। মনে করা হচ্ছে এই দুর্নীতির টাকা গিয়ে পৌঁছেছে বাংলাদেশে।

চাকরি দেওয়ার নাম করে নেওয়া এই টাকা নিয়ে বড়সড় আশঙ্কা রয়েছে ইডির। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আশঙ্কা, শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির টাকা হাওয়ালার মাধ্যমে বাংলাদেশে গিয়ে পৌঁছেছে। হাওয়ালার মাধ্যমে বিপুল টাকা সীমান্ত পার করা হয়েছে। আর এর পেছনে রয়েছে একটি ব্যবসায়িক সংস্থা।

ইডি সূত্রে খবর, ওই ব্যবসায়িক সংস্থা তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে। সেটি একটি টেক্সটাইল কোম্পানি। ওই কোম্পানি হাওয়ালের মাধ্যমে বিপুল টাকা বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। এই কোম্পানির যারা ডাইরেক্টর তাদের সাথে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাই তাদের কাছে নোটিস পাঠানো হয়েছে। অনুমান অর্পিতার বাড়িতে উদ্ধার হওয়া ২১ কোটি টাকার বাইরে লেনদেনের পরিমাণ আরো অনেক বেশি। সেই বিপুল টাকা কোথায় গেল? সেটাই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পাশাপাশি ওই কোম্পানির ডাইরেক্টরদের কাছে জানতে চাওয়া হবে।

পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, জেনে-বুঝে এসএসসির নিয়োগ দুর্নীতিতে ইন্ধন দিয়েছেন তিনি। তার নির্দেশে একটি কমিটি তার সহযোগীদের সঙ্গে মিলে টাকার বিনিময়ে চাকরি দিয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, পিংলার ক্ষীরোদাতে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামাইয়ের মামার একটি স্কুল রয়েছে। ওই স্কুল খোলা হয়েছে বেআইনিভাবে হাতানো টাকাতেই। পার্থ তার সহযোগীরা টাকার বিনিময় চাকরি বিক্রি করেছেন। গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি, নবম-দশম শ্রেণিতে নিয়োগ হয়েছিল এই উপদেষ্টা কমিটির মাধ্যমে। এই উপদেষ্টা কমিটি তৈরি হয়েছিল পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নির্দেশে।

অর্পিতার ফ্ল্যাটে উদ্ধার হওয়া ওই ২১ কোটি টাকা একটি হিমশৈলের চূড়া মাত্র বলে মনে করা হচ্ছে। আরো নগদ টাকা অন্য কোনো পথে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অনুমান। সেই পথে এগোতেই উঠে এসেছে এই হাওয়ালার তথ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *