আমাদের ভারত, ৩১ মার্চ: নিয়োগ দুর্নীতির বিতর্কের মাঝে বাম আমলের সুপারিশ নিয়ে নয়া বিতর্ক উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রবীন শিক্ষাবিদ তথা প্রাক্তন উপাচার্য ডঃ পবিত্র সরকার প্রশ্ন তুললেন, “সুপারিশ আর আর্থিক লেনদেন ঘুলিয়ে দিলেই হবে?“ সামাজিক মাধ্যমে এই প্রশ্ন রাখার ১ ঘন্টায়, শুক্রবার বেলা সাড়ে এগারোটায় পোস্টটির লাইক, মন্তব্য ও শেয়ার হয়েছে যথাক্রমে ৭৫, ২১ ও ৮।
শুক্রবার তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “আমি বোকা লোক বলেই বুঝি না অনেকে এ কথা বলছেন কেন যে, তাঁরা কোনও একটা বিশেষ আমলের প্রচুর সুপারিশে চাকরি হওয়ার কথা জানেন। আমি ঐতিহাসিক নই, কিন্তু সুপারিশে (চিরকুটে, মৌখিক অনুরোধে, আদেশে) কোন্ আমলে চাকরি হয়নি, তার কোনও হদিশ তাঁরা দিতে পারবেন ?
আসল প্রশ্নটা কি তাঁরা ঘুলিয়ে দিতে চাইছেন যে, সেই সুপারিশের সঙ্গে এক, লক্ষ লক্ষ টাকা লেনদেন হয়েছিল কি না; আর দুই, যোগ্যদের বঞ্চিত করে বিপুল সংখ্যায় অযোগ্যদের চাকরি দেওয়া হয়েছিল কি না। কিছু ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত দু’ক্ষেত্রেই থাকতে পারে, কিন্তু এই হারে? এই হাজারে হাজারে? যে জন্য আদালত তাদের বরখাস্ত করতে এগিয়ে এসেছে? এবং এর ব্যবস্থাপনা করে যারা শয়ে শয়ে কোটি টাকা কামিয়েছে তাদের, মন্ত্রী এবং তার অজস্র অনুচরদের জেলে পাঠিয়েছে?
সেই বিশেষ আমলে যদি এই বিপুল দুর্নীতির ছিটেফোঁটাও হয়ে থাকে, আমি চাইব, বর্তমানে উদ্যোগী ও সক্রিয় সরকার (বারো বছর কেন তাঁরা সুখনিদ্রায় ছিলেন এ বিষয়ে তাঁরাই বলতে পারেন) তার বিরুদ্ধে আদালতে যান এবং সে সময়কার অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করুন। এক সময়ের পুরোনো (বর্তমানে প্রাক্ত?) ‘বামপন্থী’রাও তাঁদের যথাসাধ্য সাহায্য করুন। অপরাধীদের কোনওমতেই ছাড়া উচিত হবে না।“

