মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টাকে পেয়ে, বুদবুদের বৌদ্ধস্তুপকে ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র তৈরীর আবেদন 

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২৭ জুলাই: পৈত্রিক বাড়িতে ঝটিকা সফরে এসেছিলেন। সফরে এসে এলাকার বৌদ্ধস্তুপ পরিদর্শন করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্য উপদেষ্টা আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। আর হাতের কাছে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে পেয়ে এলাকায় পর্যটনকেন্দ্র তৈরীর প্রস্তাবকে পুনরায় উপস্থাপন করলেন গলসী-১ নং পঞ্চায়েত সমিতি ও এলাকাবাসী।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার বুদবুদের ভরতপুরে আদি বাড়িতে ঝটিকা সফরে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্য উপদেষ্টা আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন পৈত্রিক ওই বাড়িতে আত্মীয়দের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষন থাকেন। গ্রামের ধর্মরাজ মন্দির ঘুরে দেখেন। একই সঙ্গে গ্রামের স্থাপত্য বৌদ্ধস্তুপ পরিদর্শন করেন। যদিও বৌদ্ধস্তপটি পুরাতত্ত্ব বিভাগের অধীনে রয়েছে। আলাপনবাবুর আগমনে উপস্থিত ছিলেন গলসী-১ বিডিও দেবলীনা দাস, গলসী-১ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি অনুপ চট্টোপাধ্যায়, স্থানীয় চাকতেঁতুল পঞ্চায়েত প্রধান অশোক ভট্টাচার্য প্রমুখ। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে হাতের কাছে পেয়ে এলাকার উন্নয়নে একগুচ্ছ আবেদন রাখেন ভরতপুরবাসী। এলাকার একমাত্র গ্রামীন হাসপাতাল বেহাল দশায়। মুখ থুবড়ে চিকিৎসা পরিষেবা। হাসপাতালটি নতুন করে চিকিৎসা পরিষেবা ও চিকিৎসক নিয়োগের বিষয়টি আবেদন রাখে গ্রামবাসীরা। একই সঙ্গে গ্রামের পাশে প্রাচীন স্থাপত্য বৌদ্ধস্তুপ রয়েছে। নজরদারির অভাবে অবাধে গবাদি পশু বিচরণ করে। সংস্কারের অভাবে নষ্ট হচ্ছে স্মৃতিসৌধটি। 

 উল্লেখ্য ২০১৬ সালে তৎকালীন অবিভক্ত বর্ধমান জেলার জেলাশাসক সৌমিত্র মোহন দুর্গাপুর মহকুমাশাসক শঙ্খ সাঁতরা, তৎকালীন গলসির বিধায়ক অলোক মাঝি স্বয়ং গোটা এলাকা পরিদর্শন করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগী হন। দীঘার আদলে রনডিহা জলাধারকে ঘিরে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেয় রাজ্য পর্যটন দফতর ও স্থানীয় পঞ্চায়েত। কিন্তু সেই প্রজেক্ট লাল ফিতের ফাঁসে বাঁধা পড়ে। রনডিহা জলাধার, ভরতপুর বৌদ্ধস্তুপ, কসবা ঐতিহ্যবাহী শিবমন্দিরকে ঘিরে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার প্রজেক্ট রিপোর্ট তৈরী করেন। তাতে রনডিহা জলাধার সংলগ্ন শিশু উদ্যান, কটেজ, বোটিং ও প্যারাগ্লাইডিং ব্যাবস্থা করা, আধুনিক মানের পরিকাঠামো উন্নয়ন করার সিদ্ধান্ত হয়। এবং প্রায় ১১ একর জমির ওপর সবুজায়ন ও উদ্যান প্রথম পর্যায়ে করার উল্লেখ ছিল। এছাড়াও জলাধারের পাশে ছোট পুকুর রয়েছে সেখানে রঙ্গীন মাছ চাষের ব্যাবস্থা করা।

১৯২৭ সালে জলাধারটি তৈরী হয়। আশপাশের রনডিহা, চাঁকতেতুল, বনগ্রাম, ফতেপুর, গোমহল প্রভৃতি এলাকার। চাষের সুবিধার্থে তৈরী হয়। দামোদরে  জলাধারের উত্তর প্রান্তে রয়েছে রনডিহা ও অপর প্রান্তে রয়েছে বাঁকুড়া জেলা। জলাধারে জলে প্রায় নির্ভরশীল প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর কৃষিজমি। জলাধার সংলগ্ন সেচদফতরের প্রায় ২০০ একর জমি রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে সেচ দফতরের বাংলো ও অফিস। জলাধার এলাকার প্রকৃতির মনোরম পরিবেশ হাতছানি দেয়। সেখানে ১০০ দিনের প্রকল্পে সবুজায়ন করা। সরকারি অতিথীশালার ও সংস্কার করা। এছাড়াও,  দামোদর নদের পাড় ধরে  কংক্রিটের রাস্তা করা। ছোটো ছোটো কটেজ, কৃত্রিম ঝর্ণা। পাশাপাশি রনডিহা থেকে ৩ কিলোমিটার দুরে ভরতপুর গ্রামে রয়েছে পুরতত্ত্ব বিভাগের বৌদ্ধস্তুপ।  ৮ কিলোমিটার দুরে কসবা চম্পাই নগরে রয়েছে চাঁদ সদাগরের স্মৃতি বিজড়িত শিব মন্দির। তৎসংলগ্ন চাঁদসদাগর স্মৃতি বিজড়িত চম্পাইনগর রয়েছে।  বেহুলা -লক্ষ্মীন্দর বাসরঘরের স্মৃতিবিজড়িত সতীপীঠ রয়েছে ঐতিহাসিক ওই শিব মন্দির বহুবার পরিদর্শন করেছে পুরাতত্ত্ব বিদরা। কিন্তু সমস্যা শুধু বেহাল যোগাযোগ ব্যাবস্থা আর পরিকাঠামো হীন। পানাগড় থেকে রনডিহা যাওয়ার প্রায় ১৫ কিলোমিটার রাস্তা বেহাল। গত তিন বছর ধরে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হলেও অসম্পুর্ন কাজে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। বেহাল রাস্তা ও সৌন্দযায়নের অভাবে ওই জলাধারে পিকনিকের মরশুমে পর্যটকরা মুখ ফিরেয়েছে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্য উপদেষ্টা আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে হাতের কাছে পেয়ে ফাইলবন্দী পর্যটনকেন্দ্র তৈরীর আবেদন পুনরায় উপস্থাপন করেন গলসী-১ নং পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি অনুপ চট্টোপাধ্যায়।

তিনি জানান, “এলাকার ঐতিহাসিক স্মৃতি সৌধ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ যা রয়েছে পরিকাঠামো উন্নয়ন করলেই দেশী বিদেশী পর্যটক আসবে। আর পর্যটক আসলেই ওই এলাকার আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে। আগে পর্যটন কেন্দ্র তৈরীর প্রজেক্ট রিপোর্ট তৈরী করা হয়েছিল। আবারও বৌদ্ধস্তুপ, কসবা শিব মন্দির, রনডিহা জলাধারকে ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র তৈরীর আবেদন পুনরায় রেখেছি। উনি বেশকিছু নির্দেশিকা দিয়েছেন। সেই মত কাজ করা হবে।” স্থানীয় চাকতেঁতুল পঞ্চায়েত প্রধান অশোক ভট্টাচার্য বলেন,” সরকারি জমি রয়েছে। 

১০০ দিনের কাজে সবুজায়ন শুরু করা হচ্ছে। সৌন্দর্যায়নে নদী তীরবর্তী প্রায় ১ কিলোমিটার ঝাউ গাছ ও দেবদারু গাছ লাগানো হবে। ইতিমধ্যে পুকুর কাটা হয়েছে। পুকুরে মাছ চাষের পাশাপাশি উদ্যান তৈরী করা হবে। পর্যটন কেন্দ্র তৈরী হলে, এলাকার মানুষের রোজগার বাড়বে। আর্থ সামাজিক উন্নয়ন হবে। আমরা আশাবাদী।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *