আমাদের ভারত, কলকাতা, ১ জুলাই: বাঁকুড়া গঙ্গাজলঘাঁটি ব্লকের মণিমালা হাজরা ও ব্রজেশ কুমার, নদীয়ার হরিণঘাটা ব্লকের অনিমেষ বাগচী ও সুদীপ্তা মল্লিক— এঁদের মধ্যে একটা মিল আছে, চার জনই রাষ্ট্রীয় বাল স্বাস্থ্য কার্যক্রমের (আরবিএসকে) আয়ুষ চিকিৎসক। আরও একটা মিল, চার জনই আহত হয়েছিলেন পথ দুর্ঘটনায়। প্রথম দু’জন ২৮ মে, ২০১৩-তে। দ্বিতীয় দু’জন ২০ আগস্ট, ২০১৩।
এ রকম বেশ কয়েকজন আহত চিকিৎসকের নাম ও দুর্ঘটনার তারিখ দিয়ে আরবিএসকে চিকিৎসকদের সংগঠনের কর্তারা শুক্রবার আক্ষেপ করলেন, তাঁদের নিজেদেরই স্বাস্থ্য বিমার সুযোগ নেই। ফলে সমস্যায় পড়তে হয়। এ দিন ছিল ‘চিকিৎসক দিবস’ এবং প্রবাদপ্রতীম কবিরাজ যামিনী ভূষণ রায়ের জন্মদিন। এই উপলক্ষ্যে নিউ ইন্ডিয়া অ্যাসুরেন্সের সহযোগিতায় চালু হল আরবিএসকে চিকিৎসকদের দুর্ঘটনা বিমা। উদ্যোক্তা এ এম আর এ অর্থাৎ ‘আয়ুষ মেডিকেল অফিসারর্স অ্যাসোসিয়েশন’। ৩০ লক্ষ টাকার দুর্ঘটনা জনিত মৃত্যু ও তৎসহ অঙ্গহানির ক্ষতি ঘটলে এই বিমা যাতে চিকিৎসকের পরিবার পায়, তাই এই ব্যবস্থা। যা কলকাতা প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত বিমাকর্তারা বিশদে ব্যাখ্যা করেন।
উদ্যোক্তাদের তরফে ডাঃ সুমিত সুর এবং ডাঃ কামরুল হুদা জানান, ওডিশা, কেরল, রাজস্থান, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, বিহার, দিল্লি তাদের জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন কর্মচারীদের জন্য এমন ধরণের বিমার ব্যবস্থা চালু করেছে। মাননীয় কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকারের কাছে অনুরোধ করি বিষয়টি সহৃদয় হয়ে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে দুর্ঘটনাজনিত ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য।
ডাঃ সুমিত সুর জানান, আর বি এস কে অ্যাসোসিয়েশন শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় বাল স্বাস্থ্য কার্যক্রম বা আরবিএসকে’তে কর্মরত সমস্ত আয়ুষ চিকিৎসকদের নিয়ে তৈরী হয়েছে ২০২১ সালে। এটি শুধু এই রাজ্যে নয়, দেশের সর্বোচ্চ পঞ্জীকরণ সংস্থান নীতি আয়োগ স্বীকৃত এখনও পর্যন্ত একমাত্র আরবিএস’কে ডক্টরর্স সংগঠন যা কর্মক্ষেত্রে আমাদের বিভিন্ন সমস্যা, দাবিদাওয়া, সেগুলির যথোপযুক্ত সমাধান,
আরবিএস’কে এবং আয়ুষের উন্নয়ন তথা শ্রীবৃদ্ধি ও সঠিক বাস্তবায়নের চেষ্টায় নিরলস ভাবে কর্মরত। এর পাশাপাশি বিভিন্ন জনহিতকর কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজের তৃণমূলস্তরে আয়ুষ চিকিৎসার প্রচার ও প্রসার ঘটানোও এই সংগঠনের লক্ষ্য।
আরবিএসকে কী কাজ করে? সমাজের কি উপকারে আসে? উদ্যোক্তারা জবাবে জানান, কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ উদ্যোগের প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে ২০১৩ সাল থেকেই চলে আসছে যা আগে ‘স্কুল হেল্থ প্রোগ্রাম’ নামে পরিচিত ছিল এবং এখানে বর্তমানে ‘শিশুসাথী’ নামে পরিচিত। ক’দিন আগেই প্রায় ১০টি সংবাদ মাধ্যম খবর প্রকাশ করেছে, রাজ্যে বিগত শুধু মাত্র একবছরেই ১৬০০ বাচ্চার হার্টে ফুটোর (জন্মগত হৃদযন্ত্রের ত্রুটি) অস্ত্রোপচার হয়েছে। এই প্রকল্পে বর্তমানে এমন ৪৪ ধরণের রোগ আছে, যা ০-১৮ বছর পর্যন্ত একেবারে প্রাথমিক স্তর থেকে, অর্থাৎ হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগ, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত খুঁজে বের করা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। সারা বছর ধরে এই আরবিএসকে আয়ুষ চিকিৎসকরা নিরলস ভাবে এই কাজ করে চলেছেন। আমাদের রাজ্যে এই কাজে সব ব্লক ও মিউনিসিপালিটিতে মোট ৮২৮ টি মোবাইল হেলথ টিম এ ১৬৫৬ জন চিকিৎসক এবং ৮২৮ জন ফার্মাসিস্ট ও সমসংখ্যক নার্স থাকার কথা। যদিও বর্তমানে অনেক পদ খালি রয়েছে।
প্রশ্ন হল সরকারি চিকিৎসকদের আলাদা করে গ্রুপ ইন্সুরেন্সের প্রয়োজন হল কেন? সুমিতবাবু জানান, ২০১৩ থেকেই প্রত্যন্ত গ্রামে গঞ্জে গাড়িতে বা নৌকায় ঘুরে ঘুরে এই পরিষেবা দেওয়ার মাঝেই ৭জন আরবিএসকে আয়ুষ মেডিক্যাল অফিসারগণ অনেকগুলি দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছেন কর্তব্যরত অবস্থাতেই। ইতিমধ্যেই আমরা বেশ কয়েকজন সহকর্মীকে চাকুরিরত অবস্থায় হারিয়েছি রোগের কারণে যাদের পরিবারের অবস্থা এখন শোচনীয়। এছাড়াও অনেকেই এর মধ্যে কাজে থাকাকালীন নানা সময় দুর্ঘটনার স্বীকার হয়েছে ও চরম ভুক্তভোগী। এমতাবস্থায় এএমআরএ বিষয়টির প্রয়োজনীয়তা ও প্রাসঙ্গিকতা বিচার করে একটি সমাধানের আশু প্রচেষ্টা করছে।

