আমাদের ভারত, ৫ আগস্ট: পেগাসাস কাণ্ড নিয়ে উত্তাল হয়েছে সংসদ। দিনের পর দিন সংসদের উভয় কক্ষের অধিবেশন মুলতবি হয়েছে। এই ইস্যুতে সরকারের ওপর চাপ তৈরি করতে চেষ্টার কসুর করছে না বিরোধীরা। এবার সেই পেগাসাস ইস্যুতেই পাল্টা আক্রমণ করতে শুরু করল কেন্দ্র। সরকারের অভিযোগ, পেগাসাস ইস্যু নিয়ে কংগ্রেস সংসদকে অযথা অসম্মান করছে। পেগাসাস’কে হাতিয়ার করে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে নজরদারি চালানোর যে অভিযোগ উঠেছে তা সরাসরি অস্বীকার করেছেন প্রাক্তন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ। তাঁর দাবি পেগাসাস নিয়ে কোনো তথ্য প্রমাণ নেই সরকারের বিরুদ্ধে।
যে সময় পেগাসাস নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তদন্ত চালানোর দাবি উঠেছে সেই সময় কেন্দ্রের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ছিলেন রবিশঙ্কর প্রসাদ। ফলে তাঁর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তাই পেগাসাস ইস্যুতে এবার মাঠে নামলেন সেই রবিশঙ্কর প্রসাদ। পেগাসাস নিয়ে কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে তিনি অভিযোগ করেন, “সংসদের অসম্মান করছে কংগ্রেস, জোর করে সংসদের কার্যক্রম চলতে দেওয়া হচ্ছে না। অথচ বিজেপির সব ধরনের আলোচনার জন্য শুরু থেকেই প্রস্তুত রয়েছে।”
পেগাসাস নিয়ে বিরোধীদের তোলা যাবতীয় দাবি অস্বীকার করে তিনি বলেন, “নজরদারি চালানো হয়েছে এমন কোনো প্রমাণ নেই। অন্য সব অধিবেশনের মতো সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর ঠিকআগে এই ধরনের চক্রান্তের রচনা করা হয়েছে। একই ভাবে সংসদের প্রতিটি অধিবেশনের আগে চক্রান্তের পুনরাবৃত্তি হয়েছে। নজরদারি বা ফোনে আড়িপাতার কোনও প্রমাণ কেউ দিতে পারবেন না। অযথা বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা করা হচ্ছে।”
একই সঙ্গে তিনি বলেন, এখনো পর্যন্ত বিরোধীরা এমন কোনও প্রমান দেখাতে পারেননি যাতে তাদের দাবির সত্যতা মেনে নেওয়া যায়। ফোন নম্বরগুলিকে ট্যাপ করার জন্য পেগাসাস স্পাইওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছিল সেগুলির যথাযথ কোনও প্রমাণ সামনে আসেনি। তিনি বলেন, “আমরা পার্লামেন্টে আলোচনার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু যখন কেন্দ্র এই বিষয়ে বিবৃতি দিতে গেল তখন বিরোধীরা তা ছিঁড়ে ফেলল। পেগাসাস নিয়ে অযথা হৈচৈ করা হচ্ছে কিন্তু আলোচনার জন্য কেউ তৈরী নয়।
প্রসঙ্গত, পেগাসাস নিয়ে প্রথম চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট ফাঁস করে দ্যা ওয়ার নামে এক পোর্টাল। অভিযোগ, ইজরাইলি স্পাইওয়্যারকে হাতিয়ার করে ভারতের প্রায় ৩০০ জন রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, বিচারপতি, সরকারি কর্তাদের ওপর নজরদারি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই তালিকায় নাম রয়েছে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, তৃণমূল নেতা অভিষেক ব্যানার্জি, ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোর সহ একাধিক বিরোধী দলের প্রথম সারির নেতারা। ৩০০ জনের ওপর নজরদারি চালাতে কমপক্ষে সাতটি পেগাসাস লাইসেন্সের প্রয়োজন রয়েছে। আর এক একটি লাইসেন্স এর দাম ৬০ কোটি টাকারও বেশি। ফলে ৪২০ কোটি টাকা এক্ষেত্রে খরচ হয়েছে সরকারের বলেও অভিযোগ উঠেছে।

