আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৬ সেপ্টেম্বর: মুখ্যমন্ত্ৰী ঘোষণা করলেও দুয়ারে রেশন পৌঁছে দেবেন না রেশন ডিলাররা। আগামী ভাইফোঁটার দিন থেকে দুয়ারে সরকারের মতো দুয়ারে রেশন পৌঁছে যাবে বলে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করলেও তা নস্যাৎ করে দিয়ে রাজ্য এমআর ডিলার অ্যাসোসিয়েশন পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিল, তারা কোনও ভাবেই দুয়ারে রেশন পৌঁছে দিতে পারবেন না। সোমবার সংগঠনের রাজ্য নেতা বিশ্বম্ভর বোস বাঁকুড়ায় এসে একথা জানিয়েছেন।
আজ বাঁকুড়া জেলার এমআর ডিলার অ্যাসোসিয়েশন জেলার নবনির্বাচিত তৃণমূল বিধায়কদের সংবর্ধনা ও কনভেনশনের আয়োজন করে। রবীন্দ্র ভবনে আয়োজিত এই সংবর্ধনা সভায় জেলার ৪ জন জয়ী তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে তালডাংরার বিধায়ক অরূপ চক্রবর্তী ও বড়জোড়ার বিধায়ক অলক মুখার্জি ছাড়া বাকি দু’জন অনুপস্থিত ছিলেন। সংবর্ধনা শেষ হলে বিধায়ক দু’জন মঞ্চ ছাড়েন। তারপর কনভেনশন শুরু হতেই সংগঠনের সদস্যরা তাদের দাবি-দাওয়া এবং সরকারের পরিকাঠামো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সর্বভারতীয় ফেয়ার প্রাইস অ্যাসোসিয়েশন ও রাজ্য এমআর ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের নেতা বিশ্বম্ভর বোস বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন ভাইফোঁটার দিন থেকে রেশন দুয়ারে পৌঁছে যাবে। কিন্তু কে বা কারা তা পৌঁছাবে সে প্রশ্ন উঠতেই জানানো হয়েছে রেশন ডিলাররা তা করবেন। কিন্তু দুয়ারে রেশন ব্যবস্থা ভারতীয় আইনে কোথাও উল্লেখ নেই। তারপরও মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশকে আমরা মান্যতা দিতে রাজি। কারণ ওনার মতো জনপ্রিয় নেত্রীকে আমরা কেউ অমান্য করতে পারি না।
মুখ্যমন্ত্ৰী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের প্ৰশংসা করে তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনদরদি প্রশাসক। মানুষের দুঃখ-যন্ত্রণার কথা বোঝেন বলেই এই প্রকল্পগুলি চালু করছেন। কিন্তু আমাদের রাজ্যে এই প্রকল্প চালু করার কোনও পরিকাঠামো নেই। রেশন ডিলাররা কী পরিমাণ বাড়তি কমিশন পাবেন তাও পরিষ্কার নয়।
সংগঠনের বাঁকুড়া জেলা সম্পাদক গুরুপদ ঢক বলেন, আমাদের পক্ষে আদৌ সম্ভব নয় দুয়ারে রেশন পৌঁছে দেওয়া। এ বিষয় নিয়ে সরকার সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে না বসে, পরিকাঠামো ঠিক আছে কি না তা না জেনে আলটপকা ঘোষণা করেছেন। আমাদের সমস্ত খরচ খরচা বাদ দিয়ে ৫০ হাজার টাকা ভাতার ব্যবস্থা করলে আমরা চেষ্টা করব। এদিন জেলার বিধায়ক ও খাদ্য দপ্তরের রাষ্ট্ৰ মন্ত্ৰী অনুপস্থিত থাকায় ক্ষোভ চেপে রাখেননি বিশ্বম্ভরবাবু। তিনি বলেন, এই জেলাতেই রয়েছেন খাদ্য দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যোৎস্না মান্ডি। তিনি আমাকে কলকাতায় আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বাঁকুড়ায় আসার জন্য। তার বাড়িতে যাবারও নিমন্ত্রণ করেছিলেন। আমি আজ বাঁকুড়ায় এলেও তিনি আমন্ত্রিত হওয়া সত্বেও অনুপস্থিত থাকলেন। তিনি না আসতেই পারেন। কিন্তু দুয়ারে রেশনের পরিকাঠামো রয়েছে কি না সেটা তো উনি জানেন। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, সরকার এমআর ডিলারদের যন্ত্রণার কথা বুঝতে চাইছেন না।

