অমরজিৎ দে, ঝাড়গ্রাম, ১২ জুলাই: করোনা পরিস্থিতিতে এবার মাসি এগিয়ে এলেন জগন্নাথের পাশে। সেখানেই তিনি সাত দিন থাকবেন। ঘটনাটি ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর গুপ্ত বৃন্দাবন ঠাকুরবাড়ির। গতবছরও করোনার কারণে মাসির বাড়ি যাওয়া হয়নি জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা দেবীর আর এবছর ও তাদের যাওয়া হচ্ছে না।

ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুরের গুপ্ত বৃন্দাবনের চারশো বছরের প্রাচীন রথযাত্রার নিয়মে এবারও বদল আনল মন্দির কর্তৃপক্ষ। ভিড় এড়াতে এবং করোনার স্বাস্থ্য বিধি রক্ষা করতে এবছর জগন্নাথদেবের রথ মাসির বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেবে না। কথিত আছে মাহেশের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃহৎ রথযাত্রা হয়ে আসছে গোপীবল্লভপুরের গুপ্ত বৃন্দাবনে। প্রতিবছর রথে চেপে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা মাসির বাড়ি যেতেন ২ কিলোমিটার দূরে কাপাশিয়াতে। কিন্তু এবছররও করোনা মহামারির কারণে গুপ্ত বৃন্দাবন থেকে ১০০ মিটার দূরে রাধাগোবিন্দ জিউয়ের মন্দিরের মধ্যে তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী মাসির বাড়ি। তাই এবার রথের চাকা গড়াবে মাত্র ১০০ মিটার। সেখানেই সাতদিন ধরে পূজিত হবেন জগন্নাথ বলরাম সুভদ্রা। প্রতি বছর এই রথে বাংলা, ওড়িশা এবং ঝাড়খন্ডের ভক্তরা সমাগম হতেন। কিন্তু এবার বাইরের কোনও ভক্ত গোপীবল্লভপুরের রথে উপস্থিত থাকতে পারবেন না মন্দির কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী। তাই শুধু গুপ্ত বৃন্দাবনে থাকা ২৫ থেকে ৩০ জন সেবাইত রথের দড়িতে টান দিয়ে অস্থায়ী মাসির বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। সোমবার সকাল থেকেই তার চূড়ান্ত প্রস্তুতি।

অন্যদিকে কাপাসিয়ায় মাসির বাড়ির সদস্যদের মন ভালো নেই কাপাসিয়ার মানুষজনের। ওই এলাকার বাসিন্দা স্বরূপ দাস বলেন, এক বছর ধরেই রথ যাত্রার জন্য আমরা সবাই অপেক্ষা করে থাকি প্রতিবছরই রথের সময় বহু মানুষের সমাগম হয় এখানে সাত দিন ধরে মেলা বসতো বিভিন্ন রকম অনুষ্ঠান হতো। মেলার থেকে অনেকের আয় হত। কিন্তু গত বছরও করোনা পরিস্থিতির জন্য আমাদের এখানে রথ আসেনি, এ বছর আমরা আশা করেছিলাম হয়তো করোনা কিছুটা ভালো হবে এবং রথ আবার মাসির বাড়ি আসবে কিন্তু এ বছর তা হয়ে উঠছে না তাই আমরা খুবই দুঃখিত এবং মর্মাহত।

