প্রকাশ পাচ্ছে রাসবিহারি বসুর জীবনী ‘এ সামুরাই ড্রিম অফ আজাদ হিন্দ’

অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ১৫ জুন:স্বাধীনতার ৭৫ বছরে ভারতের চিরকালীন বিস্ময়-বিপ্লবী রাসবিহারি বসুর ওপর একটি প্রামান্য বই লিখলেন কলকাতাবাসী লেখক প্রসূন রায়। শুক্রবার বইটির অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন কলকাতায় জাপানের কনসাল জেনারেল কোচি কাকাগাওয়া।

কেন উদ্বোধনের জন্য জাপানের কনসাল জেনারেলকে বেছে নেওয়া হল, অভিজ্ঞ কাউকেই তা বলার প্রয়োজন নেই। জাপান-দুহিতাকে জীবনসঙ্গিনী করার আগে থেকেই কীভাবে জাপান রাসবিহারি বসুর নিজের ভূমি হয়ে উঠেছিল, তা প্রায় রূপকথার মত কাহিনী। প্রায় সকলেরই জানা। কিন্তু শয়নে-স্বপনে ভারতের স্বাধীনতা ছিল এই বিপ্লবীর প্রধান লক্ষ্য। এরই আলেখ্য বইটিতে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন প্রসূন।

বিভিন্ন ধরণের ছোটদের এবং প্রাপ্তবয়স্কদের বই লেখেন। ঔষধ প্রস্তুত এবং বিপননের পারিবারিক ব্যবসায় জড়িত প্রসূনের পড়াশোনা দোলনা ডে স্কুল, লা মার্টিনিয়ার স্কুল, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আই আই এম লখনউ থেকে এমবিএ।

তা হঠাৎ কেন রাসবিহারী বোসকে নিয়ে বই? প্রসূনের জবাব, “আমরা অনেকেই এই বিশিষ্ট নেতা ও স্বাধীনতা সংগ্রামীর নামের সাথে সম্পূর্ণ ভাবে পরিচিত নই। স্বাধীনতার ৭৫ বছরের ‘অমৃত মহোৎসবে’ তাঁর আপাত অজানা ও অচেনা ব্যক্তিত্বকে সকলের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি ‘এ সামুরাই ড্রিম অফ আজাদ হিন্দ’-এর মাধ্যমে।

প্রসূনের কথায়, রাসবিহারী বোস ছোটবেলা থেকেই পরাধীন ভারতকে স্বাধীন করার স্বপ্ন দেখতেন। ব্রিটিশ মুক্ত স্বাধীন ভারত তৈরী করার জন্য নিজে হাতে বোমা তৈরী করতেও পিছুপা হননি। ১৯১২ সালে দিল্লির চাঁদনী চকে লর্ড হার্ডিঞ্জকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছিলেন। যদিও সেবার সেই চেষ্টা সফল হয়নি। কিন্তু ব্রিটিশের দর্প চূর্ণ হয়েছিল। তিনি ‘যুগান্তর’ এবং ‘গদর’ আন্দোলনের বিশিষ্ট ভূমিকায় ছিলেন। ১৯১৫ সালে ব্রিটিশের চোখে ধুলো দিয়ে জাপানে স্বেচ্ছায় নির্বাসিত হন। তাঁর ডাক ‘ইন্ডিয়া ফর ইন্ডিয়ান্স‘, ‘ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স লিগ’ এবং পরবর্তীকালে ‘আজাদ হিন্দ বাহিনী’ প্রতিষ্ঠা তাঁর যুগান্তরকারী প্রচেষ্টা। তিনি ১৯৪২ সালে ভারতীয় যুদ্ধবন্দিদের নিয়ে আজাদ হিন্দ বাহিনী প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর তিনি সুভাষ চন্দ্র বসুকে আমন্ত্রণ করে আজাদ হিন্দ বাহিনীর নেতৃত্ব হস্তান্তর করেন।

কিন্তু স্বাধীনতা সংগ্রামে তো আরও বেশ কিছু বিপ্লবীর অসাধারণ অবদান আছে? তাঁদের স্মৃতিচারণের কোনও উদ্যোগ? প্রসূনের জবাব, ‘এ সামুরাই ড্রিম অফ আজাদ হিন্দ’-এ শুধু রাসবিহারী বসুই নয়, সারা পৃথিবীর যে সব সংগ্রামীরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ভারতের স্বাধীনতার সূর্য উদিত করার সংগ্রাম করেছেন তাঁদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *